এশিয়ান টিভির ৫ম শ্রেণি পাশ দুর্বৃত্ত সাংবাদিক মেহেদী হাসান কবিরের আমলনামা

Date: 2025-05-31
news-banner

এস আই খান:



এশিয়ান টিভির সাংবাদিক মেহেদী হাসান কবির লেখাপড়া করেছেন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। চাঁদাবাজি ও ব্লাকমেইলিংয়ে তিনি সাংবাদিকতাকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের আইন অনুসারে সাংবাদিকতা করার জন্য নুন্যতম স্নাতক পাশ হতে হবে। তাহলে এশিয়ান টিভিতে কিভাবে মেহেদী হাসান কবির স্টাফ রিপোর্টার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়? 

নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার আমলাব গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান কবির।  ছোট বেলায় এলাকায় ছাগল চুরি করে ধরা পড়েছিল। একবার কিশোরগঞ্জে ডাকাতি করতে গিয়ে অস্ত্রসহ ধরা পড়েছিল সে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, মেহেদী হাসান কবির ভূয়া পুলিশ পরিচয়ে রায়পুরা থানার নিলকুটি গ্রামের মাসুদ নামে এক এনজিও কর্মীকে রায়পুরা থানার আদিয়াবাদ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার আনামুখদোয়া বাজার থেকে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় মাসুদকে উদ্ধার করা হয় এবং কবিরকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এসময় তার সাথে অস্ত্র ছিলো বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়। 

প্রতক্ষদর্শী আরও জানান মেহেদী হাসান কবিরের নামে রায়পুরা থানায় ও বেলাব থানায় একাধিক মামলা থাকার পরেও কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে? 

এছাড়াও বীমার টাকা আত্মসাতে ধরা পড়ে ৭/৮ মাস জেলও খেটেছিলো। বেলাব থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা আছে। আওয়ামীলীগের আমলে উত্তরার একটি বাড়িতে জঙ্গী আস্তানা আছে বলে নিউজ করার ভয় দেখিয়ে বিএনপির এক নেত্রীর কাছে থেকে মোটা অংকের চাঁদা নিয়েছিল। স্বল্প শিক্ষিত হলেও এশিয়ান টিভিতে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ নিয়ে এখন সাংবাদিকতার সাইনবোর্ডে নানা অপকর্ম করে আসছে এই মেহেদী হাসান। 

মেহেদী হাসান কবির ধান্দাবাজী ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি ভালো অভিনয়ও করতে পারেন বলে বেলাব উপজেলার একাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষী দেন। বিস্তারিত জানতে চাইলে বেলাব প্রেসক্লাবের এক সাংবাদিক বলেন, কিছুদিন আগে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশানের খায়রুল বাকের নামে একজন ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে উদ্দ্যেশ্য প্রোনিতভাবে নিউজ করতে আসলে ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল বাকের ছোট ভাই মো: খায়রুল হাসানের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মেহেদী হাসান কবিরের কপালে সামান্য আঘাত লাগে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে বেলাব থানায় প্রথমে অভিযোগ পরে এশিয়ান টিভির অফিস থেকে চাপ প্রয়োগ করে চাপ প্রয়োগ করে মামলা এফ আই আর করতে বাধ্য করা হয়। সেই মামলাকে আরও শক্ত করার জন্য মাথায় নতুন নতুন ব্যান্ডেজ বেধে বিভিন্ন দপ্তরে ঘিরে পরিবেশকে অনেক ঘোলাটে করে। সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে, ডিআইজি, এসপি ও বেলাব থানার ওসিকে চাপ প্রয়োগ করে ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল বাকেরের ভাই আলাউদ্দিন ও সবুজ নামে একজনকে গ্রেফতার করানো হয়। যেহেতু বেলাব সরকারী হাসপাতালের রিপোর্ট স্বাভাবিক ছিলো তাই মেহেদী হাসান কবির হাসপাতালের ডাক্তারকে রিপোর্ট পরিবর্তন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করার তথ্য প্রতিবেদকের কাছে আসে। প্রতিবেদক তাৎক্ষনিক বেলাব থানার অফিসার ইনচার্জ ও বেলাব সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে সেই রিপোর্ট আর পরিবর্তন করার সুযোগ পায় নাই। এ বিষয়ে এশিয়ান টিভির নরসিংদী প্রতিনিধির কাছে জানতে চাইলে তিনি রিপোর্ট পরিবর্তনের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।  কিন্তু মেহেদী হাসান কবিরের কপালের ব্যান্ডেজ প্রায় ১০ দিন কিভাবে নতুন ছিল? তিনি কিভাবে গোসল করলো? সেই ব্যন্ডেজের বিভিন্ন দিনের ছবি প্রতিবেদকের কাছে আছে। মাঝে মধ্যে ব্যান্ডেজ খুলেও ঘুরাফেরা করার প্রমানও রয়েছে। 

এশিয়ান টিভির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিনিধি বলেন, মেহেদী হাসান কবির এশিয়ান টিভিতে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। তাকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা এশিয়ান টিভিকে দিতে হবে সেই চুক্তিতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাই তাকে এশিয়ান টিভি থেকে গাড়ি, ক্যামেরা সহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল বাকের কাছে মেহেদী হাসান কবির নিউজ না করার শর্তে মোটা অংকের টাকা ডিমান্ড করে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল বাকের তা দিতে রাজি হয় নাই বলে এশিয়ান টিভি তার বিরুদ্ধে নিউজ করে সম্মানহানী করার চেষ্টা করে ও সে কিভাবে নগর ভবনে চাকরী করে তা দেখে নেবার হুমকী দেয়। 



কিন্তু সাংবাদিকতার নামে এসকল ধান্দাবাজ, বাটপার, অশিক্ষিত, মূর্খদের দৌড়াত্ম কমাতে মিডিয়া সেন্টারগুলো আরও সচেতন ও যাচাই বাছাই করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন সর্বসাধারণ। সেই সাথে এরকম সাংবাদিক কিভাবে এশিয়ান টিভির মত এত জনপ্রিয় টিভি সেন্টারে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পায় সেখানেও অনেকের প্রশ্ন?

Leave Your Comments