এস আই খান:
সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম কর্তৃক এসিস্ট্যাট জেনারেল ম্যানেজারদের (৪র্থ গ্রেড) কার লোন প্রদানে ব্যপক অনিয়ম ও স্বৈরাচারী মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে ২০২৫ সনে এসিস্ট্যাট জেনারেল ম্যানেজারদের (৪র্থ গ্রেড) কার লোন প্রদানে তুঘলকি, আজব ও অমানবিক কান্ড/ঘটনা চলছে। কারন ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে ব্যাংকটি ৪৩৩ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমেরারী ভিত্তিতে এজিএম (৪র্থ গ্রেড) পদে পদোন্নতি প্রদান করে এবং পদোন্নতির শর্তে বলা হয়েছিল 'পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে যোগদান করলে যোগদানের তারিখ থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন উক্ত পদে বেতন ও ভাতাদি প্রাপ্য হবেন'। সে মোতাবেক যোগদানকৃত ৪র্থ গ্রেডের (এজিএম) সকল নির্বাহীদের বেতন ভাতা (আপ্যায়ন ভাতা, পেপার বিল, টেলিফোন বিল ইত্যাদি) প্রদান করা হলেও পদোন্নতি প্রাপ্ত প্রায় ৫০% এজিএমদের কার লোন প্রদান করা হচ্ছে না। ফলে মাসিক কার মেইনটেনেন্স ভাতা/অবচয় ভাতা সহ প্রতিমাসে ৬৭,০০০/- টাকা বঞ্চিত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চরম বৈষম্যের সৃষ্টি করছে মর্মে তারা দাবী করেছেন। এ ব্যাপারে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের (কর্মচারী কল্যাণ ও যানবাহন বিভাগ) দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজিএম কোন ব্যাখ্যা দেন নাই। এমনকি সবাইকে কার লোন দেয়া হবে না মর্মে কেন পরিপত্র/সার্কুলার জারী করেন নাই বা পদোন্নতি সংক্রান্ত দপ্তর নির্দেশে কেন এরূপ কোন শর্ত আরোপ করেন নাই সে বিষয়েও বঞ্চিত নির্বাহীদের তিনি কোন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের কার লোনের মূল নীতিমালায় বলা আছে- "নির্বাহীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং কর্মস্থলে স্বাচ্ছন্দে ও যথাসময়ে আসা-যাওয়া, অন্যান্য ব্যাংকের নির্বাহী ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের ন্যায় যাতায়াতের সুবিধায় সমতা ও সংগতি আনয়ন, সামাজিক মর্যাদা/কর্মস্পৃহা/গতিশীলতা বৃদ্ধি ও উন্নত নৈতিক মানরক্ষা এবং ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারন ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনায় নতুন মাত্রা সংযোজনের উদ্দেশ্যে পরিচালনা পরিষদের ১২ মে'২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত ৮২ তম সভায় নির্বাহীদের জন্য কার লোনের নীতিমালা অনুমোদন করা হয়।"
এ ক্ষেত্রে বঞ্চিত সকল এজিএম (৪র্থ গ্রেড) গন দাবী করছেন যে- কার লোন তথা কার মেইনটেনেন্স ভাতা/অবচয় ভাতা (Financial benefit) প্রদান করা না হলে একই পদে কর্মরত এজিএম (৪র্থ গ্রেড) দের মধ্যে চরম বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। এমনকি বঞ্চিত এজিএম (৪র্থ গ্রেড) দের মধ্যে সামাজিক মর্যাদা/কর্মস্পৃহা/গতিশীলতায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে দাবী করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট তারা একাধিক আবেদনও করেছেন। কারন তারা দাবী করেছেন যে- একই গ্রেডে কর্মরত একজন মাসে ৬৭,০০০/- টাকার আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হচ্ছেন এবং অন্যজন মাসিক ৬৭,০০০/-টাকার আর্থিক সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে ব্যাংকটির পদোন্নতিপ্রাপ্ত এজিএম (৪র্থ গ্রেড)দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং এরূপ বৈষম্যের জন্য তারা কলম বিরতিতেও যেতে পারেন মর্মে জানা গিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের কর্মচারী কল্যান ও যানবাহন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিজিএমের সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।