শেখ রাসেল আশুলিয়া প্রতিনিধি:
আশুলিয়ায় বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ভিডিও জার্নালিস্ট রফিক। সূত্র জানায়, তিনি নরসিংহপুরে হামিম গ্রুপের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহে গেলে প্রতারক সবুজের চক্রান্তে পড়েন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে, যখন সবুজ নামে এক ব্যক্তি রফিককে খবর দেয়, একটি ১৩/১৪ বছরের মেয়ের বাল্যবিবাহ দেওয়া হচ্ছে। রফিকসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং কাজী আউয়ালকে বাল্যবিবাহ পড়াতে দেখতে পান। কাজী একটি ভুয়া জন্মসনদ দেখিয়ে মেয়েটির বয়স ১৮ বলে দাবি করেন, তবে পরে জানা যায় জন্মসনদটি জাল।
ঘটনার জের ধরে সবুজ মিথ্যাভাবে সাংবাদিকদের নামে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করে মেয়েটির বাবার কাছে। পরে ১৬ হাজার টাকা নেয় এবং আরো অর্থের জন্য চাপ দিতে থাকে। বিষয়টি জানার পর সাংবাদিকরা সবুজকে জবাবদিহি করলে সে রফিকের ওপর চড়াও হয়, ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরদিন সকালে রফিক আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মাসুদ (২)। কিন্তু তিনি দীর্ঘ সময় তালবাহানা করেন এবং ঘটনার গুরুত্ব বুঝেও যথাসময়ে ঘটনাস্থলে যাননি।
রাত আনুমানিক ১টার দিকে সন্ত্রাসী সবুজ ও তার লোকজন রফিকের বাসায় হামলা চালায়, লুটপাট করে এবং তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সাংবাদিক বাবু এসআই মাসুদকে ফোন দিলে, তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু উপস্থিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো রফিককে আপস করতে বলেন।
রফিক অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বসে চা-নাশতা ও বিরিয়ানি খেয়েছে এবং আপসের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে। এমনকি তার অসুস্থ স্ত্রীকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন পুলিশ সদস্য কোনোভাবেই আপসের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না। এসআই মাসুদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”