ঈদের দিনে আজিমপুরে কবর জিয়ারাত

Date: 2025-03-31
news-banner

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

 

শিশু রাইয়ান ও রিদওয়ান আটকা পড়েছে। বাবার সাথে ঈদের সলাত (নামাজ) আদায় করে দাদা-দাদীর কবর জিয়ারাত করতে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ফেরার পথে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কবরস্থানের মূল ফটকে আটকা পড়ে তারা। ভীড়ের মাঝে বের হতে না পেরে পাশেই সিঁড়িতে একটু উপরে দাঁড়িয়ে ভীড় কমার অপেক্ষা করছে। যে পরিমান মানুষ জেয়ারাত শেষে কবরস্থানের ভিতর থেকে বের হবার চেষ্টা করছে, মনে হচ্ছে তার চেয়ে বেশী পরিমান মানুষ মুখোমুখি ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। এ এক অন্যরকম জনজট লেগে গেছে।

 

ঢাকা শহরের অন্যতম বৃহত্তম কবরস্থানটি আজিমপুরে অবস্থিত। ২৭ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই সমাধিস্থলটি “আজিমপুর কবরস্থান” নামে পরিচিত। সপ্তদশ শতাব্দীতে ঢাকা শহরের পত্তনের সমসময়ে এই কবরস্থানের সূচনা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। এ পর্যন্ত এখানে কতটি মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের এক অন্বেষণে দেখা যায় যে, এখানে প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ টি লাশ দাফন করা হয়। হিসেব অনুযায়ী সপ্তাহে প্রায় দুই থেকে আড়াই শত লাশ দাফন করা হচ্ছে এখানে। ব্রিটিশ আমল ও পাকিস্তান আমলের বেশ কিছু “সংরক্ষিত কবর” কালের সাক্ষী হয়ে আছে এই সমাধিস্থলে।

 

এখানে বহু আলেম-ওলামা, দ্বীনদার-পরহেজগার ও বুজুর্গব্যক্তিবর্গসহ হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ গণমানুষের কবর রয়েছে। প্রতিনিয়ত এসব মৃত মানুষের ভক্তবৃন্দ ও স্বজনদের পদচারণা, তাসবিহ-তাহলিল, মহান প্রভুর কাছে দোয়া, মাগফিরাত কামনা, নাজাত এবং মোনাজাতের মাধ্যমে হৃদয় নিংড়ানো আবেগময় পরিবেশ বিরাজমান থাকলেও ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলো যেমন রামাজান ও ঈদের দিনে এখানে মানুষের এক উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এই উপচে পড়া ভীড়কে উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ, লাখো মানুষ তাদের স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মহান রবের কাছে প্রার্থনায় অংশগ্রহন করছে কিন্তু অনেকেই আছে যারা তাদের প্রতি তাদের পূর্বসূরীদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর অবদানগুলো অস্বীকার করে অকৃতজ্ঞের মত তাদেরকে ভুলতে বসেছে। দেখা যায়, কবরস্থানের এতো কাছে বাসস্থান যে, সেখানে কোনো মরদেহ আনা হলে ঘরে বসে মানুষের সমাগম শোনা যায় কিন্তু ওমুখো হতে মন চায় না তাদের।

 

সমাজে এমনও দেখা গেছে যে, মৃত পিতার এক জীবনে উপার্জিত সমস্ত ব্যাংক-ব্যালেন্স হাতিয়ে নিয়ে ছোটদের বোকা বানিয়ে “বড়া মিয়া” বিশাল ধনকুবের সেজে সেই টাকায় মদ খেয়ে মাতলামির চুড়ান্ত পর্যায় পৌঁছে বউকে বলে “মোর বাপের টাহায় মদ খাইছি, হেতে তোর কী?” আরো গোপন সংবাদ হচ্ছে, সেই বউকে ভয়ে সে কখনো কখনো নাকি “মা” ডাকে। অথচ মা-বাপ শুয়ে আছে পাশেই কবরে। সাধারন দিনতো দূর কা বাত, ধর্মীয় বিশেষ দিনেও এই মদুকির সেখানে যাবার ফুরসৎ নাই। এই কুৎসিত বাস্তবতার গল্প আজ নয়, তবে কথা দিলাম, শিঘ্রই জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে জাতির সামনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

 

শিশু রাইয়ান ও রিদওয়ান প্রায় ঘন্টাখানেক রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে ভীড় কিছুটা কমে আসায় এখন সামনের দিকে একটু একটু এগুচ্ছে ওরা। বাকিটা সামলে এবার ওদের ঘরে ফেরার পালা। ওদের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারাকবাদ। 

Leave Your Comments