নিজস্ব প্রতিনিধি :
ইসলামী ব্যাংকের দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন যে, আন্তর্জাতিক মাফিয়া ডন এস আলম ও তার সহযোগী ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুল মওলার প্রত্যক্ষ মদদে ব্যাংক থেকে লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করা হয়েছে।
**ইসলামী ব্যাংকের উত্থান ও রাজনৈতিক চক্রান্ত**
বক্তারা জানান, ১৯৮৩ সালে ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক ২০১২ সালের মধ্যে বিশ্বের সেরা ১,০০০ ব্যাংকের তালিকায় স্থান করে নেয়। তবে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ব্যাংকটির বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়। ২০১০ সালে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ছিল এই চক্রান্তের প্রথম ধাপ।
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংক বিরোধী ষড়যন্ত্র আরও তীব্র হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং অবশেষে ২০১৬ সালের মধ্যে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের একটি বড় অংশের শেয়ার কিনে নেয়। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ব্যাংকটি দখল করা হয়।
**ব্যাংক লুট ও অর্থ পাচার**
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যাংক দখলের পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকিং আইন পরিবর্তন করে নিজেদের স্বার্থে নিয়মনীতি শিথিল করে নেয়। এর মধ্যে একই পরিবারের চারজনকে পরিচালক রাখার বিধান চালু করা হয় এবং তাদের মেয়াদকাল ছয় বছর থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়। এছাড়া এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক থেকে মাত্র ৩,০০৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে তা ২১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করে।
২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম ও তার সহযোগীরা মোট ১ লক্ষ ৩১ হাজার ২৫০ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা বের করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
**প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্তের দাবি**
বক্তারা বলেন, এস আলম গ্রুপ ও মুহাম্মদ মনিরুল মওলা ইসলামী ব্যাংকের অর্থ লুটপাট করে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিনিয়োগের আড়ালে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে এস আলম ও মুহাম্মদ মনিরুল মওলার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে, ব্যাংকের সমস্ত লেনদেনের স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইন প্রয়োগকারী বাহিনী কী ব্যবস্থা নেয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।