আব্দুল্লাহ
আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
“সুস্থ দেহ সুন্দর মন, সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম
খুবই প্রয়োজন।” নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতি শিক্ষার অংশ হচ্ছে সহশিক্ষাক্রমিক
কার্যক্রম। এর উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর- ইউনিয়ন, উপজেলা/থানা, জেলা
ও বিভাগ পর্যায়ে “জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৫” এর আয়োজন করে। এর ধারাবাহিকতায়
গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর লালবাগ থানা শিক্ষা কার্যালয়ের আওতাধীন ৪৫ টি বিদ্যালয়ের
চূড়ান্ত বিজয়ী প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার ও সনদ বিতরণের অয়োজন করা হয় থানাধীন
আজিমপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। এর আগে অধিদপ্তর কর্তৃক নির্দেশিত
ও নির্ধারিত সময়ে থানাধীন সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৫
উপলক্ষে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ ও কাবিং এর উপর শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা
কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় আজিমপুর মডেল সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক আকলিমা বেগমের সভাপতিত্বে উপস্থিত
ছিলেন লালবাগ থানা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আক্তার বানু, থানা শিক্ষা রিসোর্স সেন্টার
ইন্সট্রাক্টর জেবুন্নেসা শেলী, সহকারি থানা শিক্ষা অফিসার ইসরাত আহমেদ, শামীমা আক্তার
ও স্বপ্না ঘোষ। আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারি শিক্ষক শায়লা রহমান ও মোসা. সাহিদাসহ লালবাগ
থানাধীন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক, অভিভাবকগণ ও অন্যান্য আমন্ত্রিত
অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার ও সনদ তুলে
দেবার প্রাক্কালে সহশিক্ষাক্রমিক কর্যক্রম বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন,
“শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি শরীরচর্চা ও সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত করা
একান্ত প্রয়োজন। এতে শরীর-মন সতেজ থাকে। শরীর ও মন ভালো থাকলে যে কোনো কাজ করতে ভালো
লাগে। পড়ালেখায় মনযোগী হওয়া যায়। অন্যদিকে যাদের শরীর ভালো থাকে না, তাদের মনও ভালো
থাকে না। তাই পড়ালেখা বা অন্য যে কোনো কাজে তাদের মন বসে না। অনেক অভিভাবকের ধারণা,
খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় মনোনিবেশ করলে শিশুদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। এরূপ
ধারণা আদৌ ঠিক নয়। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ
ঘটে এবং তা সামাজিক গুণাবলি অর্জনের সহায়ক। বক্তারা আরও বলেন, সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলির
মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চিত্ত বিনোদনের সুযোগ সৃষ্ঠি হয়। এর ফলে তারা নির্মল আনন্দ লাভ
করে থাকে। শিশুর চিন্তার সৃজনশীল বিকাশ ঘটে, নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জিত হয়, জয়-পরাজয়
মেনে নেবার সাহস বাড়ে, দেশপ্রেম জাগ্রত হয়, নৈতিক চরিত্রের বিকাশ ঘটে এবং অপরাধপ্রবনতা
কমে যায়। এছাড়াও আনুগত্য, নিয়ম-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলাবোধসহ
বিভিন্ন সামাজিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তাই বাবা-মা ও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে
পড়ালেখার পাশাপাশি শরীরচর্চা ও সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত করতে পারেন। সমাজে আলোকিত মানুষ
হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পড়ালেখার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই।”
প্রাথমিকের শিক্ষা হলো একটি দেশের শিক্ষার
ভিত্তি। শিশু বয়সেই সবচেয়ে বেশি শরীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ সম্পন্ন হয়। তাই প্রাথমিক
শিক্ষায় খেলাধুলার গুরুত্ব ব্যাপক। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে প্রাথমিক স্তরে শিশুর
খেলাধুলায় সর্বাধিক জোর দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জার্নাল পেডিয়াট্রিকস এর মতে “যেসব
শিশু বিদ্যালয়ে অন্তত ১৫ মিনিটের বেশি খেলাধুলার সময় পায়, তারা অনেক উন্নত আচরণ করে
ভবিষ্যতে।” হাতে-কলমে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শিখন-শেখানো কার্যাবলি পরিচালিত হলে সে
শিক্ষা সবচেয়ে বেশি স্থায়ী হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (একীভুত
শিক্ষা ও প্রাক-প্রাথমিক) মো. জয়নাল আবেদীন কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশিকা অনুযায়ী
জানা যায় যে, “জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৫” এর কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়ে
৫ হতে ৯ ফেব্রুয়রি ও উপজেলা/থানা পর্যায়ে ১৩ হতে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবার পর
জেলা পর্যায়ে আগামী ১৬ হতে ২১ এপ্রিল এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ২৩ হতে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে
সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।