সাভারে ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামিদের আদালতে নেওয়া হয় ভিআইপি ভাবে।

Date: 2025-02-20
news-banner



ইমরান খাঁন বিশেষ প্রতিনিধি :

সাভার: সাভারে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. এনামুর রহমানকে তার পরিবারের ব্যবস্থাপনায় বিলাসবহুল গাড়িতে করে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা।

আলোচিত একটি হত্যা মামলায় সাভার মডেল থানায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আসামিকে ঢাকার আদালতে প্রেরণের সময় ঘটেছে এমন ঘটনা। তবে কোন প্রিজন ভ্যান কিংবা পুলিশের গাড়িতে নয় এই আওয়ামী লীগ নেতাকে আদালতে পাঠানো হয় তার পরিবারের ব্যবহৃত একটি গাড়িতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের পরিবার বিলাসবহুল প্রাইভেট মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-২১৬৯) গাড়িটি মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনাম। তবে সম্প্রতি গ্রেপ্তারের পর সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আলোচিত কাইয়ুম হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে তাকে সাভার মডেল থানায় আনা হয়। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তার পরিবারের ব্যবহৃত গাড়িতে করেই আদালতে পাঠায় পুলিশ। সাভার মডেল থানা প্রাঙ্গণ থেকে ডা. এনামকে গাড়িতে উঠানো হলেও পরে যাত্রাপথে গাড়িতে এই আসামির পাশে উঠে বসেন তার প্রথম স্ত্রী রওশন আক্তার চৌধুরীও।

ছাত্র-জনতা হত্যার আলোচিত মামলায় গ্রেপ্তারকৃত অন্যতম শীর্ষ এই আসামির প্রতি পুলিশের এমন নমনীয় আচরণের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় তুলছেন সাভারে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রথম সারিতে অংশ নেয়া অনেকেই।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ডা. এনামুর রহমানের স্ত্রী রওশন আক্তার চৌধুরীর সাথে মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বিআরটিএ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আলোচিত গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-২১৬৯) সাবিনা আক্তার আলো নামে এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন করা। তবে তার নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত গাড়িটি ডা.‌ এনামের পরিবার ব্যবহারের বিষয়ে সাবিনা আক্তার আলোর স্বামী ফয়েজ আহমেদ বলেন, গাড়িটা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করলেও মাঝে মধ্যে রেন্ট-এ ভাড়া দিয়ে থাকি।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, এমন ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেছ ছাত্র-জনতা। অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও ছাত্র জনতাকে গুলি করে হত্যা মামলার সকল আসামীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

Leave Your Comments