পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায়, কাল হলো মাসুদ হাসান রনজুর।

Date: 2025-02-19
news-banner



মোঃআজাদুল হক
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধ 

পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায়  মাসুদ হাসান রনজুকে  নৃ'শংসভাবে কু'পি'য়ে হ'ত্যা। ঘটনার সাথে জড়িত ০২জন আসামী গ্রেফতার। উদ্ধার-হত্যার কাজে ব্যবহৃত কোদাল ও অনান্য অস্ত্র। 
চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা মডেল থানাধীন বদনপুর গ্রামস্থ আজিজুল হক এর ছেলে  মাসুদ হাসান রনজু(২৬)কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

 গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৯টায় ভুট্টা ক্ষেতে সেচ দেওয়ার উদ্দেশে বাড়ী থেকে বের হয়। কিন্তুু দুপুরে বাড়ীতে ফিরে না আসায় বদনপুর মাঠে তার পিতা বিকাল ৪:০০টার দিকে খাবার নিয়ে যেয়ে ডাকাডাকি করে না পেয়ে খাবার নিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসে।
সন্ধ্যা নামলে রনজু বাড়ীতে ফিরে না আসলে তার পিতা ও প্রতিবেশী লোকজনসহ ভুট্টা ক্ষেতের চারিদিকে তল্লাশী করার সময় রনজুর  পিতা ভুট্টা ক্ষেতের মাঝে রনজুর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাই এবং  তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে সবাই এগিয়ে আসে তারা দেখতে পান রনজুর মরাদেহ।
এই ঘটনার বিষয়ে  রনজুর পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানাই মামলা করেন  ১৭/০২/২০২৫ তারিখে। 

চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা মহোদয় তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার মূলরহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় জনাব কনক কুমার দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জনাব জাকিয়া সুলতানা, সহকারি পুলিশ সুপার(দামুড়হুদা সার্কেল),চুয়াডাঙ্গার নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার মূলরহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষে মাঠে নামে। হত্যার ঘটনা পারিপার্শ্বিক পর্যালোচনা করে ডিবি ও দামুড়হুদা থানা পুলিশ আজ  ১৮/০২/২০২৫ তারিখ রাত ১২:৩০ ঘটিকায় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে  হুমায়ুন কবির’কে পুলিশ হেফাজতে নেন।

হুমায়ুন কবিরকে  জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে,সে অবিবাহিত কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। একই এলাকার মিজানুর রহমানের সাথে ভাল সম্পর্ক মিজানের স্ত্রী মোছাঃ শাহানাজ সুলতানা'র সাথে তার ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়।শাহানাজ সুলতানা'র সাথে একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একই এলাকার মাসুদ হাসান রনজু শাহানাজ'র মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো।
রনজু শাহানাজ ও তার মধ্যে  কথা জেনে যাই। রনজু শাহানাজ ও আমার মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়টি শাহানাজ এর স্বামীর পরিবার সহ স্থানীয় লোকজনকে জানায়।

 ঘটনার ৫/৬ দিন পূর্বে রাতের  দিকে শাহানাজ হুমায়ন কবিরকে মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে যে, রনজু তাদের কথাবার্তা রেকর্ড করে রাখছে। তাকে মেরে ফেলতে হবে। সে আরও বলে মারতে পারলে, আমার সাথে কথা বলবা, না পারলে কথা বলবা না। উক্ত কারণে আমি রনজু'কে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করি। 

পরিকল্পনা মোতাবেক  ১৬/০২/২০২৫ তারিখ রবিবার  ১২.০০ ঘটিকার দিকে রনজু তার জমিতে পানি দেওয়া শুরু করে । ঐ সময় আমি রনজু'র পিছনে পিছনে ভূট্টা ক্ষেতের ভিতরে যেয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক পিছন থেকে কোদাল দিয়ে রনজু'র মাথায়  স্বজোরে আঘাত করলে রনজু মারা যায় । পরবর্তীতে সে রনজু'কে দুই'টি কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে কোদাল ক্যানেলের মধ্যে রেখে বাড়ীতে চলে আসে। গ্রেফতারকৃত আসামী হুমায়ুন কবির ঘটনা সংক্রান্তে বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের  নাম ঠিকানাঃ
১। মোঃ হুমায়ুন কবির(৪১), পিতা-মৃত নুর ইসলাম ২। শাহানাজ সুলতানা(২৭), স্বামী- মোঃ মিজানুর রহমান, উভয় সাং-বদনপুর, থানা-দামুড়হুদা, জেলা-চুয়াডাঙ্গা।

Leave Your Comments