আব্দুল্লাহ
আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
রাজধানীর লালবাগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৯
তম জন্মবাষির্কী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় গরিব,
দুস্থ ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণের আয়োজন করা হয়। গতকাল (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়
লালবাগ থানাধীন আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে লালবাগ থানা বিএনপির উদ্যোগে এ
আয়েজন করা হয়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৯
জানুয়ারি তারিখে ব্রিটিশ বেঙ্গলের বগুড়া জেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের
মন্ডল বাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন দম্পতির পাঁচ
ছেলের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর ডাক নাম কমল।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা
জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন
মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালি নিরস্ত্র
জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তাঁর পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন
এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড
ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর
উত্তম উপাধিতে ভূষিত করেন। জিয়াউর রহমান চার বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের
দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মে কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্যের এক
ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে নির্মমভাবে নিহত হন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে
বিবিসি বাংলা পরিচালিত “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি” জরিপে ২০ জন শ্রেষ্ঠ
বাঙালির মধ্যে জিয়াউর রহমানের নাম ১৯ নম্বরে উঠে আসে।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান। বিশেষ
অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)
জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুব বিষয়ক সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সাবেক ২৬ নং
ওয়ার্ড কমিশনার মীর আশরাফ আলী আজম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক কমিটির
সদস্য আনোয়ার পাভেজ বাদল ও ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম সরোয়ার শামীম। এছাড়াও
২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মোরশেদুর রহমান জনি, আজিমপুর বটতলা
ইউনিট সভাপতি আরমান হোসেন বাদলসহ লালবাগ থানা বিএনপির অন্যান্য নেতা-কর্মীবৃন্দ
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মহান প্রভুর পবিত্র বাণী তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শীতার্তদের
মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার
মাগফিরাত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা
হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলন, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার
দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং বৈষম্যবিরোধী ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ বিষয়ে
বক্তব্য রাখেন।