কামরাঙ্গীরচরে হতে যাচ্ছে “জনতার বাজার”

Date: 2025-01-18
news-banner

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):

 

আগামী রমজানের আগেই রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন কুড়ারঘাট সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন সরকারি খালি জায়গায় নির্মাণ করা হবে “জনতার বাজার।” আজ শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় উল্লেখিত কুড়ারঘাট মেডিকেল মোড় সংলগ্ন ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে “কামরাঙ্গীরচরে ন্যায্যমূল্যের বাজার” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ঢাকা জেলায় এ ধরনের বাজার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অন্যান্য জেলার তুলনায় অধিকতর চ্যালেঞ্জিং। ঢাকা শহরে ন্যয্যমূল্যের বাজার প্রতিষ্ঠা করতে হলে যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতায় একটি টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যে গত ১৭ নভেম্বর খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলে উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ সকলেই ন্যয্যমূল্যের বাজার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

 

মতবিনিময় সভায় ঢাকা জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন, জেলা মৎস কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকা, ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা ফাহিমা আক্তার, লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. শরিফুল হক, মোহাম্মদপুর থানা শিক্ষা অফিসারের পক্ষে সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার তানজিম শারমিন, কামরাঙ্গীরচর থানা কৃষি অফিসার মুসফিকা সুলতানা ও কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত কর্মকর্তাগণ, বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ, মিডিয়াকর্মী ও আম-জনতা উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্প্রতি নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য শাক-সবজি, আদা-রসুন-পেঁয়াজ, আলু, ডিম ও মাছ-মাংসসহ অন্যান্য পণ্যের বাজারমূল্যের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ সকল পণ্য উৎপাদন বা আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ৭/৮ বার হাত বদল হয় এবং কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ইচ্ছামত পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা হাতিয়ে নেয়। ফলে পণ্যের দাম ভোক্তা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে বেড়ে সাধারণ জনগণ বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। ফলে জনগণের ভোগান্তি ও জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। আমদানি বা উৎপাদন পর্যায় থেকে পণ্য সংগ্রহ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিহার করে সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা সম্ভব হলে উদ্ভুত সমস্যার সমাধান হবে মর্মে মতবিনিময় সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

 

এ সময় ছাত্র প্রতিনিধি মো. ইউসুফ ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য মাহমুদুল হক নাদিমসহ অন্যান্য আম-জনতার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বক্তা ও শ্রোতাদের মধ্যে আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ আলোচনাটি ছিল উপভোগ্য।

 

“জনতার বাজার” নামক ন্যায্য মূল্যের এই বাজারের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্টগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর-সংস্থার সহযোগীতায় বাজার পরিচালিত হবে।

২। দেশের যে স্থানে যে পণ্যের দাম তুলনামূলক কম সেখান থেকে পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহন করে সরাসরি ঢাকায় নিয়ে এসে বিক্রয় করা হবে।

৩। ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় উদ্যোক্তা/ ছাত্র-জনতাকে দায়িত্ব প্রদান করা হবে।

৪। প্রতিটি পণ্য জেলা প্রশাসন/ সংশ্লিষ্ট কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করা হবে। ক্রয়মূল্যের সাথে প্রকৃত পরিবহন খরচ এবং উদ্যোক্তাগণকে প্রদেয় যৌক্তিক মুনাফা যোগ করে ন্যয্যভাবে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

৫। যে কোনো চাষী, খামারি বা উৎপাদনকারী উৎপাদিত নিজস্ব পণ্য সরাসরি উক্ত বাজারে বিক্রয় করতে পারবেন।

৬। হিসাব সংরক্ষণ ও সার্বিক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার জন্য সফটওয়্যার নির্মাণ করা হবে; যাতে প্রতিটি পণ্যের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য অনলাইনে প্রদর্শিত হয়।

মতবিনিময় সভায় “জনতার বাজার” নামক এই কর্মযজ্ঞ সফল করার জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগীতা কামনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ। 

Leave Your Comments