বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

Date: 2025-01-07
news-banner



মাসুদুর রহমান
খুলনা প্রতিনিধি:

চার দিনের মাথায় ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আজ মঙ্গলবার ০৭-০১-২০২৫ সকাল ৭টা ৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পটি বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, ভারত, ভুটান এবং চীনে অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল তিব্বত বলে জানিয়েছে ভলকানো ডিসকভারি।

এর আগে গত ০৩-০১-২০২৫ তারিখে রাজধানী ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেল এর মাত্রা ছিল ৫। উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

নেপালে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে হিমালয় অঞ্চলের দেশ নেপাল। আজ মঙ্গলবার ০৭-০১-২০২৫ তারিখ সকালে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ১।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এই তথ্য জানিয়েছে। অবশ্য কম্পনের জেরে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা যায়নি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এর তথ্য অনুসারে, নেপালের লোবুচের কাছে ৭.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লোবুচে থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরতায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম বলছে, আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫১ মিনিটে কাঠমান্ডু ও আশপাশের জেলাগুলোতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ধাদিং, চিতওয়ান, সিন্ধুপালচোক, কাভরে এবং মাকওয়ানপুর জেলাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে নেপালে কোনও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালে ভূমিকম্প সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নেপাল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। যার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি সবসময় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে।

উল্লেখ্য, নেপালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানী কাঠমান্ডু এবং পোখারা শহরের মধ্যবর্তী স্থানে রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটিতে অন্তত ৮ হাজার ৯৬৪ জন নিহত এবং প্রায় ২২ হাজার মানুষ আহত হন।
‘গোর্খা ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত সেই ভূমিকম্পের আঘাতে উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি শহরও কেঁপে উঠেছিল। এর পাশাপাশি কম্পন অনুভূত হয়েছিল পাকিস্তানের লাহোরে, তিব্বতের লাসা এবং বাংলাদেশের ঢাকাতেও। সেই ভূমিকম্পের পর কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এছাড়া ওই ভূমিকম্পে মাউন্ট এভারেস্টে তুষারপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ২২ জনের মৃত্যু হয়। পরে একই বছরের ১২ মে বড় ধরনের আফটারশক অনুভূত হয়। এই আফটারশকের কেন্দ্রস্থল ছিল কাঠমান্ডু এবং মাউন্ট এভারেস্টের মধ্যবর্তী চীন সীমান্তের কাছের অঞ্চল। এতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান এবং আহত হন ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি।

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৩৬

চীনের তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। হিমালয়ের উত্তর পাদদেশে আঘাত হানা এই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮।

শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান এবং ভারতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ০৭-০১-২০২৫ তারিখে পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ডয়চে ভেলে ও আল জাজিরা।

ডয়চে ভেলে বলছে, আজ ০৭-০১-২০২৫ তারিখ সকালে হিমালয়ের পাদদেশে রিখটার স্কেলে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় চীনা মিডিয়া তিব্বতের শিগাৎসে শহরে এবং এর আশপাশে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া ডিংরি কাউন্টির চাংসুও, কুলুও এবং কুওগুও শহরগুলোর তালিকা করে বলেছে, “স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলের ভূমিকম্প ব্যুরো থেকে একজন প্রতিবেদক জানতে পেরেছেন, ভূমিকম্পে মানুষ মারা গেছেন।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আজ ০৭-০১-২০২৫ তারিখে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থলের গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল)। কিন্তু ভূমিকম্পের পূর্বের তীব্রতা ৬.৯ থেকে সংশোধন করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.১ বলে জানিয়েছে। সিনহুয়ার রিপোর্টার আরও বলেছেন, সকাল ১০টা নাগাদ “একাধিক আফটারশক” রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র আফটার শকের মাত্রা ছিল ৪.৪।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী সিসিটিভি জানিয়েছে, “ডিংরি কাউন্টি এবং এর আশপাশের এলাকায় খুব শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং ভূমিকেন্দ্রের কাছাকাছি অনেক ভবন ধসে পড়েছে।”

রয়টার্স নিউজ এজেন্সির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিগাৎসে এবং লাতসে শহরে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং ভেঙে পড়া দোকানের ফ্রন্ট, ধ্বংসাবশেষ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে।

Leave Your Comments