মোঃ রতন বাবু স্টাফ রিপোর্টার।।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার আয়োজনে আজ মঙ্গলবার বিকালে মিঠাপুকুর কলেজ মাঠে এক পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান শিমুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত আব্দুল হালিম, রংপুর দিনাজপুর অঞ্চল সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী ও রংপুর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক প্রমুখ।
পথ সভায় বক্তারা বক্তব্যে বলেন, সাড়ে পনের বছর বাংলাদেশকে শোষণ করেছে আওয়ামী লীগ, বিচার বিভাগ থেকে সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে, সেনাবাহিনীর ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করেছে, আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের দল, এখনও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে জামায়াত। সেনাবাহিনী এবং জামায়াত এদেশের একমাত্র দেশপ্রেমিক শক্তি। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে ভারতের কাছে ইজারা দিয়েছিল এবং মইন ইউর সাথে ক্ষমতার জন্য ষড়যন্ত্র করে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদস্যদের।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ মঈন ইউ আহমেদের সাথে ষড়যন্ত্র করে, পেছনের দরজা দিয়ে কানাকানি করে, ভোটের ইঞ্জিনিয়ারিং করে মেকানিজম করে ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি তারা যখন ক্ষমতায় আসে তার দু’মাস পূরণ হয়নি। পরের মাসেই আমরা লক্ষ্য করলাম, বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় তারা ৫৭ জন সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যা করল। হত্যা করে লাশ ড্রেনে ভাসিয়ে দিয়েছে। সাথে সাথে পিলখানার চারদিকে রাতের বেলা কারেন্ট বন্ধ করে দিয়ে খুনিদেরকে পালানোর ব্যবস্থা করে দিল। বিডিআরের লোকজনকে দফায় দফায় অ্যারেস্ট করেছে। সাড়ে ১৬ হাজার বিডিআর জওয়ানকে জেলে নিয়ে গেছে। সকলের চাকরি নষ্ট করে দিয়েছে। জেলের ভেতর সাড়ে ৩০০ অধিক অফিসার ও সৈনিক মারা গেছে।
জামায়াত আমির বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশকে ভারতের কাছে ইজারা দিয়ে রেখেছিল। আমরা এদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান চারটি ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করি। হিংসা-বিদ্বেষ নেই বললেই চলে। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই দৃষ্টান্ত পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে আমরা শিখেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে নয়, ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু হিসেবে এদেশের মানুষকে আখ্যায়িত করেছে।
তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার জন্য। আর জীবন গেল বিডিআরের। আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের দল। একটি বাহিনীকে শেষ করে দিয়েছে তারা। সেনাবাহিনীর কোমর ভেঙে দিল। এরপর জামায়াতে ইসলামের গায়ে হাত দিল।
এদেশের পরীক্ষিত দু’টি দেশপ্রেমিক শক্তি আছে, একটা সেনাবাহিনী আর একটা হলো জামায়াতে ইসলামী। আগেই সেনাবাহিনীর ক্ষতি করেছে। জামায়াতকে তছনছ করে দিতে পারলে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। তারা জমিদার হয়ে ওঠবে। আর দেশের মানুষকে তারা ভাড়াটিয়া বানাবে। এভাবেই ষড়যন্ত্র করেছিল তারা। কিন্তু মালিক তো বাড়ি ছেড়ে পালায় না। ভাড়া দিতে না পেরে ভাড়াটিয়া পালায়। এখন কে পালিয়েছে, ভাড়াটিয়ারা পালিয়ে গেছে? বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যাদেরকে তারা সংখ্যালঘু বলে যাদের জন্য মায়া কান্না করে তারাই তাদের জায়গা জমি অন্যায়ভাবে সব দখল করে রেখেছিল। তাদের সম্পদের উপর হাত দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের ইজ্জতের উপরেও হাত দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই সময়ে আওয়ামী লীগ মায়া কান্না করে এবং দোষ চাপায় এদেশের দেশপ্রেমিক মানুষ বিশেষ করে যারা নিষ্ঠাবান মুসলমান তাদের ওপরে।
ডা. শফিক বলেন, আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগকে তছনছ করেছে। দেশপ্রেমিক ইসলামী শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরকে খুন করেছে। শত শত নেতা-কর্মীকে গুম করেছে। আলেমকে খুন করেছে। পায়ে ডান্ডাবাড়ি হাতে হাত কড়া পরিয়ে এক জেল থেকে আরেক জেলে আলেম ওলামাদেরকে ট্রান্সফর করেছে। এভাবে দেশপ্রেমিক মানুষ এবং মুসলমানদের উপর তাণ্ডব চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। হাজার হাজার মানুষ খুন করেছে। হাজার হাজার যুবককে খুন করেছে। হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গু করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলিকে খেয়ে হজম করে ফেলেছে। দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। আর পালানোর সময় খাল-বিল, নদী-নালা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, মালিক বাড়ি ছেড়ে পালায়না, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে দেশের মানুষকে শান্তি দিচ্ছে না, এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। কোন ষড়যন্ত্রে কাজ হবেনা। তিনি আরও বলেন, বিচারিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দুনিয়া থেকে বিদায় করেছে।
জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরকে হত্যা করেছে, সঠিক বিচারের মাধ্যমে এটি এম আজহারুল ইসলামকে মুক্ত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে তিন কোটি টাকার জন্য নজিরবিহীনভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। এখন ২৬ লাখ কোটি টাকা লুটপাটের জন্য শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বেকার যুবকদের হাতে কাজ দেয়া হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে বাংলাদেশে। ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হবে।