নিজস্ব
প্রতিনিধি:
আজাদ সিনেমা হলের ম্যানেজার আলাউদ্দিন মাল
সোহেলের বিরুদ্ধে মারধর ও জীবন নাশের হুমকির অভিযোগে সুত্রাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ
করেছেন সিনেমা হল সংলগ্ন ক্যান্টিন ব্যবসায়ী টিটু চন্দ্র দে। মারধরের ঘটনায় ম্যানেজার
আলাউদ্দিন মাল সোহেল, মো. নাজির ও মো. সোহেলসহ নাম না জানা আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে ভিকটিম
টিটু চন্দ্র দে ও তার স্ত্রী শিউলী আক্তার গত শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) মামলা করতে থানায়
গেলে সুত্রাপুর থানাপুলিশ মামলা না নিয়ে ঘটনাটি সাধারন ডায়েরী হিসেবে নথিভুক্ত করেন
বলে জানান ভুক্তভোগীরা। যার সাধারন ডায়েরী নম্বর- ৬০৮, তাং- ১৩/১২/২০২৪ খ্রি.।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, বিগত ১৫ বছর যাবত ভিকটিম
টিটু চন্দ্র দে আজাদ সিনেমা হল সংলগ্ন ক্যান্টিন ব্যবসা করে আসছেন। বিবাদীগণ বিভিন্ন
সময় তাকে গালিগালাজ করে থাকেন। গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিবদী আলাউদ্দিন
অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ভিকটিমকে চড়-থাপ্পর মারে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
অতঃপর ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিবাদী মো. সোহেলসহ অন্যান্য বিবাদীরা এ বিষয়ে কোনো
মামলা-মোকদ্দমা করলে ভালো হবে না বলিয়া প্রাণে মেরে ফেলার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।
এর আগে ভিকটিম টিটু চন্দ্র দের স্ত্রী শিউলী
আক্তার অন্য ঘটনায় আজাদ সিনেমা হলের ম্যানেজার আলাউদ্দিন মাল সোহেল এবং হল মালিক ইমরান,
ইকবাল ও এরশাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানী ও মারধরের অভিযোগ এনে গত ১৯ নভেম্বর (বুধবার)
আদালতে দন্ডবিধির ১৪৩/ ৩২৬/ ৩২৩/ ৩০৭/ ৪৪৭/ ৫০৬/ ৩৪ ধারায় একটি সি.আর মামলা দায়ের করেছেন,
যা জাতীয় সাপ্তাহিক “বার্তা বিচিত্রা” পত্রিকায় গত ২৪ নভেম্বর প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ
করা হয়।
রাজধানী
ঢাকার প্রথম দিককার সিনেমা হলগুলোর মধ্যে অন্যতম আজাদ সিনেমা হলটি কালের সাক্ষী
হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরান ঢাকার জনসন রোডে। আজাদ সিনেমা হল ঐতিহ্যের কঙ্কাল হয়ে এখনো
সচল রয়েছে, তবে জীবন-প্রদীপ যেন নিবুনিবু। এই হলটিই একসময় ঢাকার অভিজাত পরিবারের
সদস্যদের বিনোদনের মূল কেন্দ্র ছিল। লেখক, চিত্রশিল্পী, চলচ্চিত্রের
শিল্পী-কলাকুশলীদের পদভারে মুখরিত থাকত আজাদ সিনেমা হল। ঘোড়ার গাড়ি ও রিকশায় চড়ে
দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসতেন সিনেমা দেখতে। ইংলিশ, উর্দু, হিন্দি ও বাংলা ছবিতে
বিশ্বকে দেখতেন তাঁরা। প্রয়াত কবি শামসুর রাহমান, চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, লেখক
সরদার ফজলুল করিম ও সৈয়দ শামসুল হকের মত বিখ্যাত ব্যক্তিরাও এই সিনেমা হলে নিয়মিত
ছবি দেখার জন্য আসতেন। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায় ৯০
বছরের ঐতিহ্যবাহী এই সিনেমা হলটি। ‘বি গ্রেড’ সিনেমা প্রদর্শন এবং রুচিহীন কর্মকাণ্ডে
মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে দর্শক।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে
সিনেমা দর্শকের বদলে জায়গা করে নিয়েছে মাদকসেবী আর অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা। প্রশাসনের
নাকের ডগায় এসব কর্মকাণ্ড চললেও নেওয়া হয় না কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। জানা যায়, আজাদ
সিনেমা হলটি নারী ও মাদক ব্যবসার অভয়ারণ্য হয়ে ওঠায় এখানে প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ী
ও মাদক সেবনকারীদের আসা-যাওয়া চলে।