নকশা অনুমোদনের জট কাটতেই চাঙ্গা বরিশালের আবাসন খাত, ৬০ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা

Date: 2026-06-15
news-banner

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে বরিশাল নগরীতে ভবনের নকশা অনুমোদন কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। সম্প্রতি ৩০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ায় আবাসন খাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে নির্মাণশ্রমিক, রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী এবং ভবন নির্মাণে আগ্রহী সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ভবনের নকশা অনুমোদন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। ফলে নগরীতে নতুন ভবন নির্মাণ কমে যায় এবং নির্মাণ খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেক শ্রমিক পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পাঁচতলা ভবনের ৪৫টি, ছয়তলা ভবনের ১২টি এবং একতলা থেকে চারতলা ভবনের ১৩৭টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকা ১২৪টি নকশার ত্রুটি সংশোধন করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ৭০টি নকশার মধ্যে ৩০টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় ৪০টি নকশা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সিমেন্ট ও রডজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী সমিতি বরিশালের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরা বলেন, “নকশা অনুমোদনের ফলে নগরীতে ৩০ থেকে ৬০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। এতে নির্মাণশ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন গতি ফিরে আসবে।”
নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বিডিং ডিজাইন সিস্টেমের স্থপতি মিলন মণ্ডল জানান, ২ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণে গড়ে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা ব্যয় হয়। সে হিসেবে অনুমোদিত ৩০টি ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি হবে।

দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, আড়াই বছর আগে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিলাম। সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু করেছি। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে ভবনের নকশা অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লাগার কোনো কারণ নেই। বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে সেই প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, “নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা হয়েছে। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের জট নিরসনের ফলে বরিশালের আবাসন খাত আবারও সচল হতে শুরু করেছে। এতে শুধু নির্মাণ খাত নয়, বরং সামগ্রিক নগর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Leave Your Comments