নিজস্ব প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ সময় তাঁরা নিহতের লাশ নিয়ে বন্দর থানা ঘেরাও করেন। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নিহত মো. জোবায়ের (১৮) পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পাশাপাশি অটোরিকশা চালাতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজ এলাকার উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে। জোবায়ের বাধা দিলে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হামলাকারীরা। পরে তাঁর মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা জোবায়েরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা বন্দর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এমনকি মামলার জন্য অর্থও দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
রোববার রাতে জোবায়েরের লাশ এলাকায় পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনতা তা নিয়ে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, নিহতের পরিবার এখনো মামলা দায়ের করেনি। তবে মামলা হলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ওই মামলাতেও আসামি হিসেবে দেখানো হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।