কাউনিয়ায় মৌখিক ইজারায় নেওয়া পুকুর দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Date: 2026-06-07
news-banner

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজপাড়া এলাকায় মৌখিক ইজারায় নেওয়া একটি পুকুর দখলের চেষ্টা, মাছ লুট, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় মৎস্যচাষি মো. সোহেল রানা।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে কাউনিয়া উপজেলা স্কাউট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। সোহেল রানা দাবি করেন, কাউনিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের অধীনে নিজপাড়া মৌজার একটি পুকুর তিনি প্রায় আড়াই বছর ধরে মৌখিক ইজারার ভিত্তিতে ভোগদখলে রেখে মাছ চাষ করে আসছেন। বর্তমানে পুকুরটিতে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ রয়েছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একই এলাকার মদন সিংহ, হাবিবুর রহমান, মিজানুর রহমান রানা, জীবন কুমার সিংহ, সোহান মিয়া, সাইফুল ইসলাম ও গোপাল সিংহ গুপ্তসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
তার অভিযোগ, গত ৬ জুন দুপুরে অভিযুক্তরা তার ভোগদখলে থাকা পুকুরে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় তার স্ত্রী মারুভি আক্তার কারণ জানতে চাইলে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধরের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। যেকোনো সময় আমাদের জানমালের ক্ষতি হতে পারে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি জানান, এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল বলেন, “সোহেল রানা পুকুরটি মৌখিকভাবে নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। পুকুরটি সরকারি দখলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, পুকুরে তার মাছ থাকলে সেগুলো তুলে নিতে। পরবর্তীতে পুকুরটি সরকারি দখলে নেওয়া হয় এবং সেখানে নতুন করে মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পুকুরটি দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুকুরপাড়ে কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং অভিযোগকারী আমাদের একজনকে গলা টিপে ধরেছিলেন। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টির দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Leave Your Comments