মোঃ মাইন উদ্দিন :
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার দ্বারিয়াকান্দি-ডুমরাকান্দা সড়কের মাঝামাঝি স্থানে একটি নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ আব্দুস সাত্তার (৫৫)-এর মর্মান্তিক মৃত্যু। পরে এই স্থানীয় জনমনে গভীর শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নেরও জন্ম নয়। দুর্ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “Md Rasel” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে করা একটি পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়, মৃত্যুর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তিনজন সাংবাদিক নাকি এক ব্যক্তির কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে এবং পরবর্তীতে এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পোস্টে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের নাম পরবর্তীতে প্রকাশ করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে এ ধরনের অভিযোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর এবং সাংবাদিকতা পেশার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগে-ভাবেই কোনো ব্যক্তি বা পেশাজীবী গোষ্ঠীকে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়সংগত নয়। একটি দায়িত্বশীল সমাজে অভিযোগের বিচার হতে হবে তথ্য, প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে- গুজব, অনুমান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।
যদি অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকে, তবে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত । অন্যদিকে অভিযোগটি যদি ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সম্মানহানির বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
সাংবাদিক সমাজেরও এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে। অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা, সত্য উদঘাটনে সহযোগিতা করা এবং পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার নীতিও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয় এটি জনস্বার্থ, সত্য অনুসন্ধান ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সাংবাদিকতার মর্যাদা, জনগণের আস্থা এবং পেশার নৈতিক ভিত্তি অটুট রাখতে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা আর নিরপেক্ষতা। আমি মনে করি অভিযোগটির সত্য উদঘাটনের মাধ্যমেই কেবল বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে এবং সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হতে পারে।