মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: অ্যাডভোকেট মোজাহারুল আলম বাবলু

Date: 2026-06-06
news-banner

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি, কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোজাহারুল আলম বাবলু।

শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভীবাজার এলাকার মানাস নদীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোপিডাঙ্গা মৌলভীবাজার অটো মালিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজসেবক কালাম হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোজাহারুল আলম বাবলু বলেন, “মাদক আজ সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি। যুব সমাজকে এই অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে হলে তাদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তরুণরা মাঠে থাকলে তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। নৌকাবাইচ আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের উৎস নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। সমাজের সচেতন মহলকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রসারে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে শিক্ষা, ক্রীড়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামাজিক উন্নয়নসহ সার্বিক জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখব। একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও উন্নত বালাপাড়া ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বালাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম, রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মামুন, মৌলভীবাজার অটো মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতা শেষে ‘একাত্তরের বিজয়’ ও ‘গনতরি’ দলকে যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে প্রধান অতিথি বিজয়ী দুই দলের প্রতিনিধিদের হাতে ট্রফি ও সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শুধু ক্রীড়া ও বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা, যুব সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Leave Your Comments