নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকায় নানি ও তাঁর দুই নাতিকে হত্যার আলোচিত মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে (৩৮) বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল নগরের কাশীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
র্যাব-৬-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র্যাব-৬ সদর কোম্পানি ও র্যাব-৮-এর একটি যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালি থানার কাশীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে খুলনার বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান পলাতক আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গত ৩০ মে খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেবি বেগম (৫৫), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৩) ও মুস্তাকিমের (৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বেবি বেগমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। আর দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ২৯ মে রাত থেকে ৩০ মে ভোরের মধ্যে রফিকুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহযোগিতায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বেবি বেগম ও শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে মুস্তাকিমকে নিখোঁজ মনে করা হলেও পরে বাসার একটি ওয়ার্ডরোবের তালা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সিআইডির সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন এবং তদন্ত শুরু করেন।
ঘটনার পরদিন নিহত দুই শিশুর বাবা মাসুম ব্যাপারী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সাংসারিক কলহের জেরে প্রায় চার বছর আগে তাঁর প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ফাতেমা বেগম ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে বিয়ে করেন।
তবে ফাতেমা বেগমের মা বেবি বেগম ওই বিয়ে মেনে নেননি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বেবি বেগম রফিকুলকে বাসায় যেতেও নিষেধ করেছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।