মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভৈরব শহরের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার কিশোরদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে বিষয়টি দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
রাত ৯টার দিকে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় কয়েকটি দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্টেশনের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও।
সংঘর্ষের কারণে স্টেশন মাস্টারসহ রেলওয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে স্টেশনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালান।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হন ৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এসআই সাইফুল, এসআই জহুরুল ইসলাম, কনস্টেবল মেহেদী হাসান, সুলতান মাহমুদ, মিন্টু মিয়া, মাহমুদুল হাসান, দাউদ নবী এবং আরএনবি সদস্য মোঃ মুছা। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, এগারোসিন্ধুর গোধূলি, নরসিংদী কমিউটারসহ অন্তত সাতটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাতে হয়। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি এবং রেলওয়ের সময়সূচিও ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের হস্তক্ষেপে রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রেললাইনের দুই পাশের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা স্টেশন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোঃ ইউছুফ জানান, হামলার ঘটনায় স্টেশনের কয়েকটি কক্ষ ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, প্রথমদিকে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।