মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের গর্তে মোটরসাইকেল পড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ আব্দুস সাত্তার (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কালভার্ট নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতিকেই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করছেন।
নিহত আব্দুস সাত্তার উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এবং বর্তমানে ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডুমরাকান্দা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে কুলিয়ারচরে ভাড়াটিয়া বাসায় ফিরছিলেন আব্দুস সাত্তার। পথে দ্বাড়িয়াকান্দি-ডুমরাকান্দা সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি গভীর গর্তে পড়ে যান। এতে মাথায় রড বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণকাজ চললেও বিকল্প বা বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। একই সঙ্গে সেখানে পর্যাপ্ত ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা রাতের বেলায় আলোর ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আগেও ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা এখানে ঘটেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশেষে একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো।
স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। এমন ব্যস্ত সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকি কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা স্পষ্ট হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস. আর. এম. জি. কিবরিয়া বলেন, প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নিয়ম মেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মাণাধীন সড়ক ও কালভার্ট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, যথাযথ তদারকি, ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, আলোকসজ্জা ও বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা থাকলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল।