নিজস্ব প্রতিবেদক:
নেত্রকোনায় একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঢুকে মনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক নারীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্ত। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর স্বামী ও ছেলেকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
সোমবার (১ জুন) রাত নয়টার দিকে পৌরসভার উত্তর কাটলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ারা বেগম ওই এলাকার ঠিকাদার মো. আবু চানের স্ত্রী। এ ঘটনায় আবদুর রশিদ (৩২) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। তিনি একই এলাকার এরশাদ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় ইজিবাইকচালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রশিদ প্রায়ই মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মনোয়ারার বাসায় গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। তখন বাসায় মনোয়ারার স্বামী ও সন্তানরা বাইরে ছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে মনোয়ারা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হত্যার পর মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এ সময় মনোয়ারার ছোট ছেলে আবির হাসান (২৫) বাসায় ঢুকে ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে ছেলেেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আবু চানকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্ত আবদুর রশিদকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত আবির হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার জানান, আটক আবদুর রশিদ নেশাগ্রস্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নেশার টাকার জন্য তিনি মনোয়ারা বেগমের কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। টাকা না পেয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”