জন্ম এক দেশে, বিশ্বকাপ জিতেছেন অন্য দেশের হয়ে

Date: 2026-05-23
news-banner

বিশ্বকাপের ২২টি আসরের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর কিন্তু ধারাবাহিক একটি বাস্তবতা রয়েছে—প্রতি আসরেই অন্তত একজন খেলোয়াড় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, যাঁর জন্ম হয়েছিল অন্য দেশে।

ফুটবলের বৈশ্বিকীকরণ, অভিবাসন এবং জাতীয় দলের বৈচিত্র্য মিলিয়ে এই তালিকা এখন দাঁড়িয়েছে মোট ২২ জনে

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলে এটি আর ব্যতিক্রম নয়, বরং একটি নিয়মিত প্রবণতা।


সবচেয়ে বেশি ‘ভিনদেশি’ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন: ইতালি

ইতালির জাতীয় দল ইতালি জাতীয় ফুটবল দল এখনো এই তালিকায় শীর্ষে।

১৯৩৪ বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিল মোট ৭ জন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়, যা এখনো এক আসরের রেকর্ড।

এর মধ্যে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া ছিলেন চারজন—
আত্তিলিও দেমারিয়া, এনরিক গুইতা, লুইস মন্তি ও রাইমুন্ডো ওরসি।

এছাড়া ব্রাজিল, ফ্রান্স ও বর্তমান ক্রোয়েশিয়া (তৎকালীন অঞ্চল) জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়রাও ছিলেন ওই স্কোয়াডে।

বিশেষভাবে আলোচিত নাম লুইস মন্তি, যিনি আর্জেন্টিনা ও ইতালি—দুই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন।


ফ্রান্স: দুই শিরোপাতেই বহুজাতিক শক্তি

দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল-এর দুই শিরোপাতেই বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় ছিলেন।

  • ১৯৯৮ বিশ্বকাপ: মার্সেল দেসাইলি (ঘানা), প্যাট্রিক ভিয়েরা (সেনেগাল)
  • ২০১৮ বিশ্বকাপ: স্টিভ মানদানদা (ডিআর কঙ্গো), স্যামুয়েল উমতিতি (ক্যামেরুন)

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড: সম্পূর্ণ দেশীয় স্কোয়াড

এখন পর্যন্ত তিনটি দল কখনোই বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় ছাড়াই বিশ্বকাপ জিতেছে—

  • ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল
  • আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল
  • ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল

এই তিন দলের সব শিরোপাই এসেছে শতভাগ নিজ দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে।


ব্যতিক্রম: টনি ক্রুস

২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান দলে ছিলেন টনি ক্রুস, যিনি পূর্ব জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন।

তার জন্মের সময় দেশটি ছিল রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত, পরে জার্মানির পুনর্মিলনের আগেই তিনি বেড়ে ওঠেন।


বিশ্লেষণ

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বকাপের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে—আধুনিক ফুটবল এখন আর শুধু জাতীয় সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

অভিবাসন, পরিবার ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ মিলিয়ে জাতীয় দলগুলো দিন দিন হয়ে উঠছে আরও বৈচিত্র্যময়।

Leave Your Comments