প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
সময়: ০২:৫৩ পিএম
টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ
বাবুল মিয়া তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে হাওরে চলাচলকারী সব হাউসবোট ও নৌযানের মালিক-পরিচালকদের আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এ ছাড়া হাউসবোট ও নৌযানে পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং ট্যুর শুরুর আগে পর্যটকদের তা জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার কিংবা কোনো ধরনের পার্টি আয়োজন করা যাবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি হাউসবোটে নিরাপদ পানীয় জলের জন্য পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখতে হবে। পাশাপাশি হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতালসহ জরুরি সেবার প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর পর্যটকদের জানাতে হবে এবং হাউসবোটের দৃশ্যমান স্থানে তা প্রদর্শন করতে হবে।
প্রতিটি হাউসবোট ও নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপ্টিক ট্যাংক স্থাপন করতে হবে। অন্যান্য বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য কমপক্ষে দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে। কোনো ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব হাউসবোট মালিক ও ট্যুর অপারেটরদের ওপর দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত কিংবা বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ বরাবর তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে সংশ্লিষ্ট হাউসবোট, নৌযান বা ট্যুর অপারেটরকে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবেদন ও নিবন্ধনসংক্রান্ত বিষয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি), সুনামগঞ্জ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।