ঢাকার রাস্তায় এআই জাদু, বসবে সব সিগন্যালে

Date: 2026-05-23
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

রাজধানী ঢাকা-র ব্যস্ত সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিবর্তন আনছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা। কয়েক দিন আগেও যেখানে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের গাড়ি থামাতে হিমশিম খেতে হতো, এখন সেখানে লালবাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত স্টপ লাইনের আগেই থেমে যাচ্ছে যানবাহন।

গত বুধবার রাত ৯টায় কারওয়ান বাজার মোড়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। বাংলামোটর থেকে ফার্মগেটমুখী সড়ক ছাড়া অন্য তিনটি সড়কে যানবাহন নিয়ম মেনে থেমে ছিল। ট্রাফিক পুলিশের সদস্য ছোটন বড়ুয়া বলেন, “আগে গাড়ি থামাতে যুদ্ধ করতে হতো। এখন লাল বাতি জ্বলে উঠলেই থেমে যাচ্ছে। শান্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারছি।”

যেভাবে কাজ করছে এআই ক্যামেরা

ঢাকা মহানগর পুলিশ-র ট্রাফিক বিভাগ ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার ৩০টি মোড়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। ‘পিটিজেড’ বা প্যান-টিল্ট-জুম প্রযুক্তির উন্নত ক্যামেরা দিয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে।

এই ক্যামেরাগুলো—

  • ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ভিডিও ধারণ করতে পারে
  • চলন্ত যানবাহন অনুসরণ করতে পারে
  • দূর থেকে নম্বরপ্লেট শনাক্ত করতে পারে
  • স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন ভঙ্গের ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করে

সফটওয়্যারের মাধ্যমে আইন ভঙ্গ শনাক্ত হলে গাড়ির নম্বরপ্লেট থেকে তথ্য নিয়ে মালিকের নামে ডিজিটাল মামলা করা হচ্ছে। এজন্য এআই সফটওয়্যারকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-র সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

কোন কোন অপরাধে মামলা হচ্ছে

ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, আপাতত ছয় ধরনের অপরাধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সিগন্যাল অমান্য করা
  • উল্টো পথে গাড়ি চালানো
  • স্টপ লাইন অতিক্রম করা
  • জেব্রাক্রসিং দখল করা
  • হঠাৎ লেন পরিবর্তন
  • অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা

এ ছাড়া আগামীতে সিটবেল্ট না বাঁধা, মোটরসাইকেলে হেলমেট ছাড়া চলাচল এবং গণপরিবহনের অনিয়মও নজরদারিতে আসবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ

১৩ দিনে ৫৪৮ মামলা

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এআই ক্যামেরা চালুর পর ১৩ দিনে প্রায় ১২ হাজার ভিডিও সার্ভারে জমা হয়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে এখন পর্যন্ত ৫৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মামলার তথ্য সরাসরি চালকের মুঠোফোনে পাঠানো হবে। এমনকি আইন ভঙ্গের ভিডিও লিংকও পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

৫০০ ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা

বর্তমানে ঢাকার ৩০টি মোড়ে মোট ১১০টি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব সিগন্যাল বাতির খুঁটিতে এ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ক্যামেরার সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত হবে।

তবে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও নম্বরপ্লেটবিহীন যানবাহন। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ঈদুল আজহার পর এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

পরিবহনবিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, “এআই হলো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে আনার শেষ ওষুধ। এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে আর কার্যকর বিকল্প থাকবে না।” তাঁর মতে, ডিজিটাল সিগন্যাল ও এআই ক্যামেরার পাশাপাশি অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

Leave Your Comments