নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতায় এবার প্রাণ হারালেন মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন নামের এক বাংলাদেশি যুবক। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের এই তরুণ রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে জাহাঙ্গীরের বন্ধু মৃদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। মৃদুলও একই সেনাক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র ও ভিডিও বার্তা অনুযায়ী, ১৮ মে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি হতাহত হন। এতে নিহত হন জাহাঙ্গীরসহ তিনজন। অন্য নিহতরা হলেন মো. সুরুজ কাজী এবং মো. ইউসুফ খান। হামলায় আরও একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভিডিও বার্তায় মৃদুল অভিযোগ করেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, “এমন দুর্ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি। তাদের প্রতারণার কারণেই আমরা তিনজন বন্ধুকে হারালাম।”
জাহাঙ্গীরের ফুফাতো ভাই মো. রমজান জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাস দিয়ে জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। প্রথমে তাঁকে একটি পিগ ফার্মে কাজ দেওয়া হয়েছিল। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে রেস্টুরেন্টে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরসহ সাত বাংলাদেশিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। প্রায় দুই মাস প্রশিক্ষণের পর তাঁদের যুদ্ধে পাঠানো হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ড্রোন হামলায় নিহত হন জাহাঙ্গীর।
তবে অভিযুক্ত আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি-এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, তিন ভাইবোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর ছিলেন সবার বড়। দুই বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান। তিনি বিবাহিত এবং তাঁর দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
হুমায়ূন কবির বলেন, “ঘটনাটি শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছি। জাহাঙ্গীর হোসাইনের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
এদিকে এমরানুল কবির জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগেও একই সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হন মো. রিয়াদ রশিদ। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।