মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে ঘিরে নতুন কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে United States। সামরিক অভিযান বাড়ানো বা অঞ্চল থেকে সরাসরি সরে যাওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রাখার প্রস্তুতি নিতে সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে। বিশেষ করে ইরানি বন্দরমুখী জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেশটির জ্বালানি খাতকে চাপে রাখার পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে কার্যকর বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। এই কৌশলের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে কূটনৈতিক আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
গত ফেব্রুয়ারিতে Israel–এর সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ে। এর জবাবে Iran বিভিন্ন আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলেও নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়।
পরে Pakistan–এর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। ইসলামাবাদে একাধিক দফা আলোচনার পরও দুই পক্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। ওই প্রস্তাবে Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার বিষয় থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ নীতি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও বাড়ছে।