দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ দুপুরের মধ্যে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ধরনের ঝড় সক্রিয় রয়েছে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে তা আরও তীব্র হতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের কয়েকটি বিভাগে ঝড়ের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাত এবং প্রবল দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
শুধু ঝড় নয়, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ সৃষ্টির প্রবণতা এখনও সক্রিয় রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, জেলে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে খোলা স্থানে অবস্থান না করা, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় নৌযাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।