সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, দীর্ঘ এক বছরের প্রেম, এরপর হাজার মাইল দূরত্ব পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে বিয়ে—এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রেমের গল্পের সাক্ষী হলো কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা। প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে স্থানীয় এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনা যুবক চেন বাও মিং।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, Bheramara Upazila উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বেহলা গ্রামের বাসিন্দা তাসলিমা খাতুন (১৯)-এর সঙ্গে চীনের গাতসু প্রদেশের বাসিন্দা চেন বাও মিং (২৪)-এর পরিচয় হয় প্রায় এক বছর আগে। অনলাইনে আলাপচারিতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
চেন বাও মিং পেশায় একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। তিনি জানান, তাসলিমার প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণেই তিনি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সম্মতি নিয়ে গত ২০ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান। পরে কুষ্টিয়া আদালতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিয়ে নিবন্ধন করা হয়।
বর্তমানে নবদম্পতি তাসলিমার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। বিদেশি জামাইয়ের আগমনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। চেন বাও মিংকে এক নজর দেখতে আশপাশের মানুষজন তাসলিমাদের বাড়িতে ভিড় করেন।
স্থানীয়দের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে চেন বাও মিং বলেন, তিনি বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতায় অভিভূত। তাসলিমার পরিবার তাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাসলিমা খাতুন বলেন, উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে এবং দুই পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তিনি এই নতুন জীবন নিয়ে খুবই আনন্দিত ও আশাবাদী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে আন্তর্জাতিক বিয়ের এমন ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে এই বিয়ে নিয়ে গ্রামজুড়ে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব কমে আসছে। বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি এবং আন্তঃদেশীয় বিয়ের ঘটনাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
এই প্রেমের গল্প এখন ভেড়ামারার মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে—যেখানে ভালোবাসা ভাষা, সংস্কৃতি ও দূরত্বের সীমা অতিক্রম করেছে।