নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন ভয়ংকর মাদক সিন্ডিকেটের দখলে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের তোয়াক্কা না করে এখানে মাদকের একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করেছেন নুরনবী (২৯) ও তার স্ত্রী নিপা বেগম (২৬) একাধিক মামলা এবং বারবার কারাবরণের ইতিহাস থাকলেও, এই দম্পতি প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছেন। বর্তমানে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় উদ্যান এলাকায় মাদক কেনাবেচা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,
নুরনবীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলাগুলো হলো:
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা: এফআইআর নং- ৩৬/৩১৫ (তারিখ: ২৫/০৮/২০১৭)।
শাহবাগ থানা: এফআইআর নং- ২১/৫৫১ (তারিখ: ০৯/১০/২০১৮)।
শাহবাগ থানা: এফআইআর নং- ৯৪১/২৫ (তারিখ: ২৫/১০/২০২৫)।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন থানায় আরও ২/১টি মামলা আছে বলে জানা যায়। গত ২৫ অক্টোবর ৫০০ গ্রাম মাদকসহ (নবীর নিকট ৩০০ গ্রাম ও নিপার নিকট ২০০ গ্রাম) গ্রেপ্তার হলেও তারা দ্রুত বেরিয়ে এসে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
এই সিন্ডিকেটে নুরনবীর প্রধান সহযোগী তার স্ত্রী নিপা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ ব্যবসার সকল অর্থের জোগান ও হিসাব নিয়ন্ত্রণ করেন নিপা। অন্যদিকে, এই দম্পতিকে গাঁজার পাইকারি সাপ্লাই দেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের আমিনুল ইসলাম মোল্লা (৩২)। সারা দেশব্যাপী গাঁজার ডিলারদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়া এই আমিনুল ও নবী জুটি ক্যাম্পাস ছাত্র সাম্য হত্যা মামলার সাথেও জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নবীর হয়ে মাঠ পর্যায়ে মাদক বিক্রি করে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি নিয়মিত দল। যাদের অর্থের জোগান ও মাদক সরবরাহ করেন স্বয়ং নবী ও নিপা। এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্যরা হলো— হাসিনা, বস্তা কামাল, রঞ্জু, মুস্তাকিম, নাজমুল, পুতুলি, শাওন, নাসরিন, রতন, রনি, বৃষ্টি, বন্য, রাতুল, লিটন, রাব্বি ও বৈশাখী।
স্থানীয়দের অভিযোগ,
নবী ও নিপা অত্যন্ত ধূর্ত হওয়ার কারণ ধরা পড়ার পরও দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে যায়। বর্তমানে তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাধারণ দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই দম্পতিকে দ্রুত স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় আনা না গেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবেশ কখনোই নিরাপদ হবে না।
বর্তমানে এই মাদক দম্পতির অবাধ বিচরণ প্রশাসনের নজরদারি ও কর্মতৎপরতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।