আব্দুল কাইয়ুম আরজু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সংখ্যালঘু রাখাইন সম্প্রদায়ের পৈতৃক ওয়ারিশী সূত্রে পাওয়া প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি প্রভাবশালী মহল কর্তৃক দখলের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলার কলাপাড়া প্রেসক্লাব হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রাখাইন প্রতিনিধি বোচান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বোচান দাবি করেন, সিএস, আরএস ও এসএ রেকর্ড অনুযায়ী বিতর্কিত এই জমিটি তাদের পূর্বপুরুষদের নামে বৈধভাবে নথিভুক্ত। লতাচাপলী মৌজার এসএ ৭৫৭ খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে অবস্থিত এই জমির মালিকানা দীর্ঘকাল ধরে তাদের পরিবার ভোগ করে আসছে। তবে সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী চক্র ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে এবং গায়ের জোরে জমির চারদিকে বাউন্ডারি দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
বোচান অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে দখলদার চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা শুধু দখলই নয়, বরং জমির প্রকৃত ধরন পরিবর্তন করে স্থায়ীভাবে দখলের পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন,"আমাদের এই বিপুল সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না।"
জমির মালিকানা ফিরে পেতে বোচান ইতোমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত নভেম্বর মাসে পটুয়াখালী যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং ৪১৭/২০২৪)। মামলায় আব্দুল জব্বার হাওলাদারকে প্রধান করে আরও ৮৭ জনকে বিবাদী করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বোচান দাবি করেন, মহিপুর থানা পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। উল্টো দখলদারদের হুমকির মুখে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। বালিয়াতলীর হাড়িপাড়া রাখাইন পল্লীর এই বাসিন্দা তার পৈতৃক ভূমি রক্ষায় এবং সংখ্যালঘু হিসেবে জানমালের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।