পঞ্চগড়, ২৭ নভেম্বর – হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে, যা জেলার মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত এক সপ্তাহ ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে বিরাজ করছে। হিমালয় থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস এখনও পুরোপুরি বইতে শুরু করেনি, তবে ভিন্ন মাত্রায় শীতের প্রভাবে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য কমতে শুরু করেছে।
শীতজনিত রোগের প্রভাবে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কার্তিক মাসের শেষ থেকে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতু বৈচিত্র্যে পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, চলতি সপ্তাহ থেকে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিনশ রোগী বহির্বিভাগে আসছেন, যাদের মধ্যে ২০-২৫ জনকে ভর্তি করা হচ্ছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, চলতি সপ্তাহে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩-১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ ২৯-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।