গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে তরুণদের সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র একটি অনুষ্ঠানে এক তরুণীর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ভ্যান্স তার স্ত্রী উষা একদিন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
তবে এই মন্তব্য ভারতের ভেতরে এবং ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মান্তরকে ঘিরে পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
ভ্যান্স জানান, তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় হয়েছেন এবং হিন্দু পরিবারে বেড়ে ওঠেছেন। ভ্যান্স নিজে ইভানজেলিকাল পরিবারে বেড়ে উঠলেও ২০১৯ সালে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেন।
বিষয়টি অনেক ভারতীয় সহজভাবে নেয়নি। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ভায়েস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
কিন্তু উষাই বহু বছর আগে ভ্যান্সকে ধর্মের সঙ্গে পুন:সংযোগ স্থাপন করতে উৎসাহ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এই ভায়েস প্রেসিডেন্ট।
লেখাপড়ার সময় ইয়েল ল স্কুলে ভ্যান্স ও উষার প্রথম পরিচয় হয়। এরপর ২০১৪ সালে, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই জুটি।
২০১৯ সালে, ক্যাথলিক ধর্ম নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেন ভ্যান্স। উষার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, উষার সঙ্গে প্রথম যখন দেখা হয়েছিল, তখন তিনি (ভ্যান্স) নিজেকে নাস্তিক ভাবতেন।
গত জুন মাসে এক সাক্ষাৎকারে উষা ভ্যান্স বলেছেন,আমি ক্যাথলিক নই। হওয়ার ইচ্ছাও নেই। সন্তানরা ক্যাথলিক স্কুলে পড়ে।
তিনি আরও জানান, সন্তানদের তার পরিবার থেকেও হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি শেখানো হয় এবং তাদের নানী নিয়মিত মন্দিরে যান এবং পূজা করেন।
ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে ভায়েস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, স্ত্রীর ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই। যদি উষা খ্রিষ্টধর্মে না আসে, তাতেও সমস্যা নেই। ঈশ্বর সবাইকে স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন এবং বিবেচনা করার জন্য বিবেক দিয়েছেন।’
নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় থেকে ধর্ম, পরিবার ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সমন্বয়ে ভ্যান্সের দৃষ্টিভঙ্গি রক্ষণশীল শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়ে আসছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো।