আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে শুঁটকি মৌসুমের প্রস্তুতিমূলক কাজ। শীতের বাজারকে সামনে রেখে সমুদ্রতীরজুড়ে গড়ে ওঠা শুঁটকি পল্লীগুলোতে এখন শ্রমিকদের ব্যস্ততার চরম সময়। চাং, বাসা ও দোকান নির্মাণে চলছে দিনরাত কাজ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, মাত্র সাড়ে চার মাসের মৌসুমেই এখানে বিক্রি হয় কোটি কোটি টাকার কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুঁটকি তৈরির জন্য পল্লী নির্মাণে শ্রমিকদের বিরামহীন কাজ চলছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে কেমিক্যাল ছাড়া শুঁটকি তৈরির খ্যাতি থাকায় দেশ-বিদেশে চাহিদা বাড়ছে কুয়াকাটার শুঁটকির। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আরও এক-দুই দিনের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে শুঁটকি উৎপাদন কার্যক্রম, যা চলবে আগামী মার্চ পর্যন্ত।
শ্রমিকদের ভাষ্য—নভেম্বরের শুরুতেই মৌসুম শুরু হওয়ায় এখন তাদের সময় কাটছে পরিশ্রমে। একটি শুঁটকি পল্লী গড়তে প্রায় ১৮ দিন লেগে যায়। মৌসুম এলেই এখানে সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত কর্মসংস্থান।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ইউসুফ মৃধা জানান, লইট্ট্যা, ফাইস্যা, ছুরি, ছোট চিংড়ি, ছোট পোয়া, রূপচাঁদা, লাক্ষাসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ শুঁটকি করা হয় এখানে। প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়।
এদিকে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন—অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়লে এবারের মৌসুম হবে আরও সফল।
কুয়াকাটার শুঁটকি শিল্পকে আরও পরিকল্পিত করতে প্রশাসনও উদ্যোগ নিচ্ছে। কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জানান—শুঁটকি প্রস্তুতকারীদের জন্য নির্ধারিত স্থায়ী জায়গা বরাদ্দের কাজ এগিয়ে চলছে। যাতে পরিবেশসম্মত এবং সুশৃঙ্খলভাবে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মৌসুমি এই শিল্পকে কেন্দ্র করে শীতের শুরুতেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে কুয়াকাটার শুঁটকি পল্লী। আশায় বুক বেঁধেছেন শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা সবাই।