দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ চরম সংকটে: ১৫ বছর অচল পবিপ্রবির সিসমোগ্রাফ

Date: 2025-11-21
news-banner

বরিশাল , আবু জাফর বিশ্বাস: 


দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণের একমাত্র স্থায়ী যন্ত্র—পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) স্থাপিত সিসমোগ্রাফ—টানা ১৫ বছর ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অ্যানালগ সিসমোগ্রাফ বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পসহ অঞ্চলটির কম্পনের আনুষ্ঠানিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ফলে ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলের সাড়ে চার কোটি মানুষ বাস্তব ঝুঁকির মুখোমুখি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগিতায় দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ও দুই জেলা শহরে সিসমোগ্রাফ স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তারই অংশ হিসেবে পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে স্থাপিত যন্ত্রটি শুরুতে মাত্র দুইবার তথ্য রেকর্ড করতে সক্ষম হয়। ২০১১ সালের শুরুতেই যন্ত্রটি বিকল হয়ে যায়। এরপর নতুন ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে পুনরায় চালুর চেষ্টা করলেও কিছু মাসের মধ্যেই আবারও এটি অচল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি সচল হয়নি।

ভূমিকম্প গবেষকরা জানান, ভূকম্পনের সময় চার ধরনের তরঙ্গ ছড়ায়—প্রাইমারি (পি), সেকেন্ডারি (এস), সারফেস ও রেলি। কার্যকর সিসমোগ্রাফ থাকলে প্রাথমিক তরঙ্গের সময় ব্যবধান কাজে লাগিয়ে আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব, যা জান–মালের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মাটির নিচের প্লেট নড়াচড়া ও ভূমির উচ্চতার পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে, যেখানে ঘন ঘন ভূমি ধস ও সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে।

যন্ত্রটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক মো. মুনীবুর রহমান বর্তমানে জার্মানিতে থাকায় দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় অধ্যাপক ড. এস. এম. তাওহীদুল ইসলাম। তিনি জানান, “এটি বহু পুরোনো অ্যানালগ যন্ত্র। উন্নত দেশগুলো ডিজিটাল সিসমোগ্রাফ ব্যবহার করছে। প্রকল্পটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হওয়ায় সমাধানের সিদ্ধান্ত তারা নেবে।”

দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণের একমাত্র যন্ত্রটি দীর্ঘ সময় অচল থাকায় বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় গবেষক ও নাগরিকরা দ্রুত নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সিসমোগ্রাফ স্থাপন এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি তুলেছেন।

Leave Your Comments