আরও ভয়াবহ হতে পারে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, ভিন্ন পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের তাগিদ

Date: 2025-11-09
news-banner

বরগুনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৯ হাজার মানুষ, আর প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই সংখ্যা দেশের অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছর সারাদেশে ৭৭ হাজারের বেশি মানুষের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার রোগী রাজধানীতে, আর বাকি ৬৫ শতাংশ রোগী রাজধানীর বাইরে। অথচ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি সিটি করপোরেশনগুলোতেও ডেঙ্গু দমন কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,

“আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছর মফস্বলে ডেঙ্গু একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে থাকবে। একে ঠেকানো খুব কঠিন হবে। পৌরসভা বা ইউনিয়ন এককভাবে এটি সামাল দিতে পারবে না।”

অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন,

“আমরা বাস্তবিক মশা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে লোক দেখানো কর্মসূচি বেশি করি। তাই ডেঙ্গু কমে না। এডিস ও কিউলেক্স মশার জীবন ও প্রজনন আলাদা—একই উপায়ে এদের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অথচ সিটি করপোরেশনগুলো একই পদ্ধতি ব্যবহার করে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি আরও স্পষ্ট। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি খারাপ হলে কেবল স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচি নেওয়া হয়, যা স্থায়ী সমাধান দেয় না।

তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে কাগজে কলমে দেখা যাচ্ছে। তবে করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এটিকে তথ্যগত ভুল বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা রোগীদের বড় অংশ দক্ষিণ সিটি এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এমনটি দেখানো হচ্ছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম বলেন,

“জনবল সংকটের কারণে নিয়মিতভাবে ওষুধ ছিটানো যাচ্ছে না। এখন বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় জনসাধারণ ও সুশীল সমাজকে যুক্ত করা হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের আগে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার সম্ভাবনা নেই। বরং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে আগামী মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে

Leave Your Comments