বরিশাল গৌরনদীতে মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে মাছ চাষ, জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকি”

Date: 2025-11-08
news-banner

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ 

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছের খাদ্যে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন অধিকাংশ মৎস্য খামারি। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। অনেক সচেতন মানুষ ইতিমধ্যেই চাষের মাছ খাওয়া বন্ধ করেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে—দিঘি, পুকুর ও ঘেরের ওপর লেয়ার ও ব্রয়লার খামার তৈরি করে মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এসব খামারের বিষ্ঠা সরাসরি পানিতে পড়ে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি বয়লার মুরগির লিটার (বিষ্ঠা) স্থানীয় খামারিদের কাছ থেকে কম দামে কিনে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকেই।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাসের উদ্যোগে এক সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তখন খামারিরা পর্যায়ক্রমে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তার বদলির পর উদ্যোগটি থেমে যায়।

খামারিদের দাবি, একসময় সরকার থেকেই মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষে উৎসাহ দেওয়া হতো। এখন মৎস্য খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে এই পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ দেবনাথ বলেন, “মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি পুকুরের পানি দূষিত হয়ে যায়। এজন্য আমরা খামারিদের সচেতন করছি।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার জানান, “মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। এরই মধ্যে আমরা তালিকা প্রস্তুত করছি। প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হবে, তারপরও না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “বিষ্ঠা কম্পোস্ট বা বায়োগ্যাস তৈরিতে ব্যবহার করা গেলে ক্ষতি হয় না। খামারিদের সে বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, “মুরগির খাবারে অ্যান্টিবায়োটিক ও রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা মলের মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ করে। এই মাছ মানুষ খেলে ক্যানসারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম বলেন, “মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে খামারিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

Leave Your Comments