বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুর্নীতি-অনিয়মের ছায়া, শিক্ষার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

Date: 2025-11-08
news-banner

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ 

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি, কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের প্রভাব—সব মিলিয়ে দপ্তরটি পরিণত হয়েছে দুর্নীতির এক আতুরঘরে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জেলার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো।
কমিশন বাণিজ্যের কেলেঙ্কারিঃ অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম যোগসাজশের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিজেই ভাগিয়ে নিচ্ছেন এবং কমিশনের বিনিময়ে তা বিক্রি করছেন। বাবুগঞ্জ ও আগৈলঝাড়ায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন প্রকল্পের দুটি কাজ তিনি ‘বসুন্ধরা হাউজিং (প্রা.) লিমিটেড’-এর নামে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং পরবর্তীতে ৭ শতাংশ কমিশনে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 
 সম্প্রতি কমিশনের টাকাকে কেন্দ্র করে ঘটে যায় এক নাটকীয় ঘটনা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছ থেকে নেয়া ২৫ লাখ টাকার অগ্রিম কমিশন নিয়ে প্রকৌশলীর দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর রাশেদ উধাও হয়ে যান। এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম নিজেই নাজেহাল হয়ে পড়েন। অপারেটরের পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। ঘটনার পর দপ্তরজুড়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে কমিশনের টাকা নিয়েই বিপাকে নির্বাহী প্রকৌশলী। সক্রিয় ঠিকাদার সিন্ডিকেটঃ দপ্তরের ভেতরের সূত্র জানায়, বরিশালে এখন ৭-৮ জন ঠিকাদারের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। 
তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বড় বড় প্রকল্প পাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের অনুমোদন, বিল ও জামানতের চেক ছাড়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। এ কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মোটা দামে সিন্ডিকেটের কাছ থেকে প্রকল্প কিনে নিচ্ছেন। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়াঃ নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ঢাকাস্থ প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে অভিযোগ। এমনকি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আলতাফ হোসেনকে নিয়মিত ‘উপহার’ পাঠিয়ে নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন বলেও জানা যায়। 
তার ঘনিষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানের সঙ্গে মিলে তিনি পুরো দপ্তরে অনিয়মের “রামরাজত্ব” কায়েম করেছেন বলে দাবি সহকর্মীদের। অভিযোগ অস্বীকার ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াঃ নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, দুর্নীতি বা অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
তবে স্থানীয়রা বলছেন, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই দুর্নীতির চিত্র সরকারি অবকাঠামো খাতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত কার্যকর তদন্তই পারে এই দপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে।

Leave Your Comments