খান আরিফ:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা এবং জেলা শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক সরকারি পিয়নের পরিবার। নাম মোঃ আলমগীর খান
ঝালকাঠি জজ কোর্টে পিয়ন পদে কর্মরত হলেও, তার পরিবারের হঠাৎ অস্বাভাবিক অর্থসম্পদের উত্থান ঘিরে জনমনে প্রশ্নের উঠেছে।
বিশেষ করে তার ছেলে সজল খান, যিনি নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ইউএনও
অফিসে মালি পদে চাকরি করছেন, তাকে ঘিরেই রয়েছে একাধিক অভিযোগ। গোপন সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউএনও অফিসে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও
সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি নিয়ম বহির্ভূত সুবিধা নিয়ে ছেন
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তার মা কাগজে-কলমে অফিস সহকারী পদে থাকলেও বাস্তবে তাকে অফিসে কখনোই দেখা যায় না। বছরের পর বছর অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সরকারি বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ একই পরিবারের দুইজন ব্যক্তি—সজল ও তার মা—একই অফিসে, দুইটি ভিন্ন পদে বহাল তবিয়তে চাকরি করে চলেছেন।
এমন নজিরবিহীন অনিয়মের মধ্যেই উঠে এসেছে এই পরিবারের বিপুল সম্পদের হিসাব। ঝালকাঠি শহরের পুলিশ সুপার (এসপি) অফিসের বিপরীতে রয়েছে তাদের একটি বহুতল ভবন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা। এছাড়া শহরের মধ্যেই আরও একটি টিনশেড বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে নলছিটি শহরে রয়েছে আরও একটি বাড়ি, যার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বিস্ময়ের সাথে বলেন, “সরকারি পিয়ন আর মালি হয়েও কীভাবে তারা এত অর্থের মালিক হলো? টাকার উৎস কোথায়তা এলাকার কেউ জানে না, শুধু জানে হঠাৎ করেই তারা ধনী হয়ে গেছে,
এ ব্যাপারে সজল খানের সাথে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করলে কলটি রিসিভ করেননি,
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে এ ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ যেন সরকারি চাকরির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক দুর্নীতির সাম্রাজ্য! প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এমন অনিয়ম আরও উৎসাহ পাবে, যা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য ভয়াবহ সংকেত।