উজিরপুরে আওয়ামী নেতা ভূমি-দস্যু লিটন ও সায়মন আতঙ্কে ঘর ছাড়া আলো মধুর পরিবার।

Date: 2025-08-02
news-banner

শাহ্ আলমঃ 

বরিশালের উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি, ভূমি-দস্যু খায়রুল বাশার লিটন ও একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সায়মন বাড়ৈ গংরা  জোড়পূর্বক  অবৈধ দখলে নেয় অসহায় খ্রিস্টান পল্লির আলো মধুর বসত বাড়ি, তাদের ভয়ে এলাকা ছাড়া আলো মধুর পরিবার।

 তদন্ত সূত্রে জানা যায় যে, বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের রাজাপুর মৌজায় জমি সহ বসত বাড়ী ক্রয় করেন একই জেলার আগৈলঝাড়ার বাগধা গ্রাম নিবাসি ফ্রান্সিস মধু তার স্ত্রী আলো মধুর নামে, ২০১৯ সালে বসতবাড়ি ও ঘর সহ ১ একর সাড়ে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ইলা ডরথি খান এর পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে। জমির নামজারি ও ৩৩ বছরের খাজনাও পরিশোধ করেন আলো মধুর নামে। কিন্তু তৎকালীন স্বৈরসাশক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ খায়রুল বাশার লিটন ও রাজাপুরের ৪ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সায়মন বাড়ৈ জোরপূর্বক ক্ষমতার দাপটে  খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আলো মধুর ক্রয়কৃত বাড়ী ও জমি দখল করে নেয় তারা।

বিরোধীয় জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। সায়মন বাড়ৈ তার ক্ষমতা বলে আইন ও স্থানীয় সালিশ মিমাংসার তোয়াক্কা করেননা বলে জানা যায়। সায়মন বাড়ৈর নিয়ন্ত্রীত সন্ত্রাসী বাহিনী ও মাদকসেবিরা আলো মধুর ক্রয়কৃত জমিতে থাকা একটি পরিত্যক্ত ঘরে প্রতিদিন মাদকের আসর বসায় বলেও জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ফ্রান্সিস মধু এই প্রতিবেদককে জানান যে, তার স্ত্রী আলো মধুর বাবার বাড়ীর কাছে হওয়ায় সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে বসতবাড়ি সহ জমিটি তার স্ত্রী আলো মধুর নামে ক্রয় করেন, শেষ জীবনে শান্তিতে বসবাস করার লক্ষ্যে। কিন্তু তাতে বাধ সাজেন আলো মধুর ভাতিজা, ভূমি-দস্যু আওয়ামী যুবলীগ নেতা সায়মন বাড়ৈ।
সায়মন নিজ স্বার্থ চিরতার্থ করার জন্য তার ফুফুকেও বিন্দুপরিমান ছাড় দেননি, কেড়ে নিয়েছেন ফুফু আলো মধুর শেষ সম্বল বসত ভিটাও।  এমন অভিযোগ নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদারের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা পাননি তারা বরং শাহে আলম তালুকদরের জোড়ে  সাতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান  শাহিন এর শালিশী বৈঠকে ভরা মজলিশে সায়মন বাড়ৈ ও খায়রুল বাশার লিটন গংরা বলেন জমি ফেরত পেতে চাইলে সায়মন গংদেরকে ১৫,০০০০০/টাকা চাঁদা দিতে হবে নচেৎ  জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হবে না ।
 ভূমি-দস্যু  সায়মন বাড়ৈ গংদের বিরুদ্ধে উজিরপুর থানায় একাধিকবার  অভিযোগ করেও তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগীতা পাননাই আলো মধু।
অসহায় আলো মধু তার বসতভিটা ফিরে পেতে আদালত সহ সমাজের অনেক  দরজায় কড়া নাড়ছেন কিন্তু এখনো মুখ তুলে তাকায়নি কোনো মহল।

সর্বশেষ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১ জুন ষড়যন্ত্র করে কে বা কাহারা আলো মধুর বসত ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে উল্টো আলো মধুর বিরুদ্ধেই হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করেন সায়মন গংরা।

ঘরে আগুন দেওয়ার বিচার চেয়ে ৪ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৫ টায় রাজাপুর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী আলো মধুর পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফ্রান্সিস মধু তার লিখিত বক্তব্যে বলেন যে, তিনি তার স্ত্রী আলো মধুর নামে  ২০১৯ সালে বসতবাড়ি ও ঘর সহ ১ একর সাড়ে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ইলা ডরথি খান এর থেকে। জমির নামজারি ও ৩৩ বছরের খাজনা পরিশোধ করেন আলো মধুর নামেই। কিন্তু এই যায়গা ক্রয় করার পরপরই ভূমি-দস্যু লিটন গংরা তার জমি জোর দখল করে নেয় 
এর মধ্যে গত ১ জুন গভীর রাতে ওই ঘরে সায়মন বাড়ৈর সন্ত্রাসী বাহিনী আগুন দিয়ে উল্টো বাড়ীর পাহারাদার, দিনমজুর মঞ্জু বেপারীসহ আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আলো মধু,,নিকটতম আত্মীয় সালমা ও মঞ্জু বেপারী। এদিকে মঞ্জু বেপারী বলেন গত সোমবার দুপুরে আমার একটি মোবাইল ফোন ও পোনামাছ ক্রয়ের গচ্ছিত রাখা দুই লক্ষ টাকা চুরি হয়। এর একদিন পরেই ঘরে সায়মন বাড়ৈর সন্ত্রাসী বাহিনীরা নাটক করে অগ্নিসংযোগ করে আমার মোবাইল ফোনটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে উজিরপুর মডেল থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে।
 মোবাইল ও নগদ দুই লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় আমি বরিশাল আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এদিকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ভূমি-দস্যু সায়মন বাড়ৈর কবল থেকে জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এছাড়া ও শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে রাজাপুর বাজারে খ্রিস্টান পল্লীতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের অভিযোগ তুলে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাতলার রাজাপুর বাজারে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও  সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ,সহ-সভাপতি বিল্লাল ভাট্টি,সাধারণ সম্পাদক মোঃ হালিম বিশ্বাস,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাহাদুর। এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন রাজাপুর গ্রামে কোন খ্রিস্টান পল্লী নেই এখানে হিন্দু মুসলমান খ্রিস্টানদের বসবাস। মূলত আলো মধুর দলিলকৃত জমি জোরপূর্বক সায়মন বাড়ৈ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দখল করে। উক্ত জমি নিয়ে আলো মধু ও সায়মন বাড়ৈর মধ্যে মামলা ও বিরোধ চলে আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে নাটক সাজিয়ে ষড়যন্ত্র মূলক একটি পরিত্যক্ত ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কিন্তু এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে  সামাজিক দাঙ্গা লাগানোর পায়তারায় যুক্ত হয়েছেন একটি কুচক্রী মহল, খ্রিস্টান পল্লীতে অগ্নিসংযোগ করার অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং একটি অনলাইন পত্রিকায় ভূয়া সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ অপ প্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

 অভিযুক্তরা জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যার একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় এলাকার বাহিয়ে  পালিয়ে থাকার কারনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।তবে এলাকার একাধিক ভুক্তভোগীরা,  লিটন ও সায়মন এর বিরুদ্ধে ভূমি-দস্যুতা ও অত্যাচার নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। 

 এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান যে, বিষয়টি তদন্ত চলছে। আসল রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave Your Comments