ছারিয়া থেকে রাইসা, বিষাদে ছেয়ে গেছে সন্তানহারা বাবা-মার বুক

Date: 2025-07-24
news-banner

বাবার চুমু খেয়ে স্কুলে গিয়েছিল ছারিয়া, আর বোনের জন্য আইসক্রিম আনতে চেয়েছিল রাইসা। অথচ কেউ ফিরল না ঘরে। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে হারিয়ে গেছে একেকটা শৈশব, থমকে গেছে অনেক পরিবারের স্বপ্ন। সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় পাগলপ্রায় মা-বাবারা খুঁজে ফিরছেন আদরের সন্তানের স্মৃতি।


খোলা পড়ে আছে বই-খাতা। নিঃসঙ্গ সেই খাট, আর উঠোনে একা পড়ে আছে প্রিয় দোলনাটি। চারপাশে যেন শুধুই একরাশ শূন্যতা— শুধু ছারিয়া নেই। রাইসার খেলনা গাড়িটাও পড়ে আছে ঠিক আগের মতোই— যেন অপেক্ষায় আছে, ফিরে আসবে তার মালিক।


ছারিয়া আক্তার আর রাইসা মনি; দুইজনই মাইলস্টোন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিদিনের মতোই সেদিনও তারা স্কুলে গিয়েছিল— ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে। কে জানতো, সেদিনই থেমে যাবে তাদের পথচলা?

ছারিয়ার বাবা রফিক মোল্লা বলেন, ‘আমার সন্তান হারিয়ে গেল। এখন চারপাশে কেবলই শূন্যতা। সব অন্ধকার।’

সেদিন টিফিনের সময় চিপস খাওয়ার আবদার করেছিল ছারিয়া। চাচাতো ভাই নাবিল চিপস আনতে বের হলে— তার সামনেই ভেঙে পড়ে প্রশিক্ষণ বিমান। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ক্লাসরুম।


রাইসা মনির গল্পও হৃদয়বিদারক। যে বিছানায় সে ঘুমাতো, সেটা পড়ে আছে নিঃসঙ্গ। ছোট হাতের আঁকা ছবি, লাল খেলনার গাড়ি— সব যেন জানান দিচ্ছে তার প্রাণবন্ত শৈশবের।

রাইসার বাবা-মাও আদরের মেয়েটির গল্প বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এলাকাবাসী বলছেন— এই ঘটনা এড়ানো যেত। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেনো এমন ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ, সে প্রশ্ন উঠছে বারবার।

ছারিয়া-রাইসা যেন শুধু দুইটি নাম নয়। তারা এখন হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি শিশুর প্রতিচ্ছবি। ঘরে নেই, উঠোনে নেই, স্কুলেও নেই— তারা ফিরে আসবে না। শুধু থেকে যাবে ছবি, দোলনা, আর এক অসমাপ্ত শৈশব।

ছারিয়া-রাইসাদের মা-বাবার জীবনে যে শূন্যতা তা যেন কখনোই পূরণ হবার নয়। তাই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ এলাকাবাসীর।

Leave Your Comments