ফাতেমার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেমে গেল আগুনে

Date: 2025-07-22
news-banner

উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার (৯)–এর শেষ বিদায় সম্পন্ন হয়েছে তার নিজ গ্রাম বাগেরহাটের চিতলমারীতে।


মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে কলাতলা ইউনিয়নের কুনিয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 
ফাতেমার মরদেহ ভোররাতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। দাদা-দাদি, চাচা, খালা, মামা ও প্রতিবেশীরা তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন।
 
নিহত ফাতেমা কুয়েত প্রবাসী বনি আমিন ও গৃহিণী রূপা আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। মা রূপার সঙ্গে তারা ঢাকায় বসবাস করতেন।
 
স্বজনরা বলছেন, ফাতেমা বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন বিমানের আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেল। এমন মৃত্যু যেন কারও না হয় বলে বিলাপ করতে দেখা যায় স্বজনদের।
 
 
ফাতেমার চাচা সৈয়দ নোমান হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় আমি মাইলস্টোন স্কুলের কাছাকাছিই ছিলাম। খবর শুনে আমিসহ অনেকে উদ্ধারকাজে অংশ নিই। তখনও জানতাম না আমার ভাতিজি সেখানে ছিল। পরে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ শনাক্ত করি। সকালে গ্রামে এনে দাফন সম্পন্ন করেছি।’
 
ফাতেমার চাচি মুক্তি বেগম বলেন, ‘সকালে মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পুরো গ্রাম আজ স্তব্ধ। ছোট্ট একটি প্রাণ এভাবে ঝরে যাবে কেউ ভাবেনি। ওর বাবা-মা কিছু বলতেও পারছেন না। এই শোক কখনোই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।’
 
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Leave Your Comments