রয়টার্সের প্রতিবেদন স্কুল ক্যাম্পাসে যেভাবে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলো

Date: 2025-07-22
news-banner

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাশংই শিশু। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক মানুষ।


সোমবার (২১ জুলাই) বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে গিয়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিমান ও স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে বহু স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিল।

 

কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা তা এক নজরে দেখে নেয়া যাক

 

বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলার বিমানবাহিনী ঘাঁটি থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে উড্ডয়ন করে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে স্কুল ভবনের ওপর এসে বিধ্বস্ত হয়।
 
আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বিমানের পাইলট বিমানটিকে ঘনবসতি এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
 

বিমানটি কোথায় বিধ্বস্ত হয়?

 

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়। কলেজটি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) দূরে অবস্থিত।
 
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ ভবনের পাশে পড়ে রয়েছে। বিধ্বস্তের ঘটনায় ভবনের লোহার গ্রিল ভেঙে গেছে এবং ভবনে একটি গর্ত তৈরি হয়েছে।


কতজন নিহত হয়েছে?

 

মঙ্গলবার আইএসপিআর জানিয়েছে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৩১ জন নিহত ও ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে জেটের পাইলট মো. তৌকির ইসলাম সাগরও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি শিশু।
 

দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি কোন মডেলের?

 

জেনস ইনফরমেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি চীনে তৈরি একটি এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান। সামরিক সরঞ্জাম-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েবসাইট গ্লোবাল সিকিউরিটিডটকমের তথ্য অনুযায়ী, এফ-৭ বিজিআই মডেলের বিমানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের চেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। এটি স্বল্প খরচে নির্মিত, এক ইঞ্জিনচালিত ও দুই আসনবিশিষ্ট একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। মূল সংস্করণ এফ-৭ এর জন্য পাইলটদের প্রস্তুত করতে এফটি-৭ বিজিআইয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
 
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০১১ সালে ১৬টি যুদ্ধবিমানের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৩ সালের মধ্যে এই বিমানগুলো ডেলিভারি সম্পন্ন হয়।
 

সরকার কী বলছে?

 

এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে বিমান বাহিনীর একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরই মধ্যে, সরকার জানিয়েছে, তারা ক্ষতিগ্রস্তদের ‘সব ধরনের সহায়তা’ দিচ্ছে।

Leave Your Comments