বান্দরবানে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করেছে তারই বন্ধু। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বান্দরবানের পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার।
ঘটনাটি ঘটেছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী বক্তার মেম্বারের ব্রিকফিল্ড এলাকায়। সোমবার (২১ জুলাই) বিকালে পুলিশ ডুলুবুনিয়া এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে নিহত সৈয়দ নুরের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইছমাইল ও তার দুই সহযোগী রোহিঙ্গা নাগরিক রহমত উল্লাহ ও আলী হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত সৈয়দ নুর ও অভিযুক্ত ইছমাইল বন্ধু ছিলেন। ইছমাইল সৈয়দ নুরের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।
পরে বিচার সালিশ হলেও ইছমাইল টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১৮ জুলাই ইছমাইল সৈয়দ নুরকে টাকা দেয়ার কথা বলে সীমান্তবর্তী অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে রোহিঙ্গা দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে সৈয়দ নুরকে মারধর করে তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠায়।
তবু সৈয়দ নুর ফিরে না আসায় তার স্ত্রী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে ইছমাইল ও পরে তার দেয়া তথ্যমতে রহমত উল্লাহ ও আলী হোসেনকে গ্রেফতার করে।
তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ ডুলুবুনিয়ার গহিন জঙ্গল থেকে সৈয়দ নুরের লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘পাওনা টাকা চাওয়ায় ইছমাইল দুই রোহিঙ্গা যুবককে ভাড়া করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সৈয়দ নুরকে হত্যা করে। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’