গোপালগঞ্জে সহিংসতা, কীভাবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা?

Date: 2025-07-19
news-banner

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগে থেকেই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল তারপরও ঠেকানো যায়নি গোপালগঞ্জের হামলা-সংঘাত-সহিংসতা। মোটাদাগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। অন্যদিকে গোয়েন্দা তথ্যের পরও কেনো সংঘাত এড়ানো গেলো না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ছাড়াও এই ঘটনায় তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন ছিলো কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।


গত ১৬ জুলাই এনসিপির কর্মসূচিতে পতিত আওয়ামী সমর্থক ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলা-সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের পরিণত হয় গোপালগঞ্জ। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে চলে দফায় দফায় সংঘর্ষ। প্রাণ যায় ৫ জনের। আহত হন বহু মানুষ। এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি গোপালগঞ্জের জনজীবন।


এমন পরিস্থিতিতে কোনও রকমে বের করে নিয়ে আসা হয় এনসিপি নেতাদের। পরদিন মুখ খোলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। জানান আগে থেকেই ছিল নিরাপত্তা শঙ্কা, এ বিষয়ে ছিল গোয়েন্দা তথ্যও।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, কিন্তু এতো বেশি পরিমাণে হবে, সে তথ্য হয়তো ছিল না।’

পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপালগঞ্জের বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে আগে থেকেই অবস্থান নেন গোপালগঞ্জে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘বাইরে থেকেও আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জে এসেছিলেন। তারা এখনো গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে মর্মে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে।’

এতো প্রস্তুতি, এতো নিরাপত্তা। আগেরদিন থেকে জেলায় পুলিশি টহল। তবুও কীভাবে বাইরে থেকে এলো বিশৃঙ্খলাকারীরা? গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও কেনো সমাবেশস্থলের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলো প্রশাসন? কিসের ভিত্তিতেই বা দেয়া হয়েছিল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স? নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, তদন্ত করে এই ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘যদি শঙ্কা থেকেই থাকে, আগে থেকে যদি সরকার জানে; স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানা মানেই তো সরকারের জানা। তাহলে সরকার সে ক্লিয়ারেন্সটা কীভাবে দিলো? এখানে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন বা তৃতীয়পক্ষের কোনো যোগাযোগ আছে কিনা, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।’

গোপালগঞ্জের ঘটনায় পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে ঢালাওভাবে ব্যর্থ বলতে নারাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। এটি শুধু সংঘর্ষের দিন সেখানে দায়িত্বরত প্রশাসনের ব্যর্থতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রস্তত থাকতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য।’

রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আগে দলগুলোকে আরও বেশি সচেতন এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ এই নিরাপত্তা বিশ্লেষকের।

Leave Your Comments