বগুড়ায় জোড়া খুনের ঘটনায় আসামি সৈকত হাসানকে নিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশ। এসময় আসামিকে বহন করা পুলিশের গাড়ি স্থানীয়রা ঘিরে ফেললে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় আসামি সৈকতকে নিয়ে শহরের ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকায় একটি জলাশয়ে অভিযান শুরু করা হয়।
সৈকতের দেখানো জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু। এসময় স্থানীয়রা সৈকতকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে আসামিকে নিয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ বলছে, প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষীপ্ত হয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে অভিযুক্ত।
এরআগে বুধবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্কুল শিক্ষার্থী বন্যার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সৈকত। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অভিযুক্ত যুবক বন্যাকে ছুরিকাঘাত করে। চিৎকার শুনে দাদি লাইলি বেওয়া ও ভাবি হাবিবা ইয়াসমিনকেও এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তিনি।
পরে স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক লাইলি বেওয়া ও হাবিবাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় কিশোরী বন্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের খান্দারে এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাসপোর্ট অফিসের সামনের সড়ক থেকে সৈকতকে গ্রেফতার করে।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার বলেন, জোড়া হত্যাকাণ্ডের শিকার নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতি মেনে দাফনের পর পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হবে। আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।