বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ঢল নামে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খুলনার রাজপথ। শিববাড়ি মোড় থেকে তেতুলতলা ঘুরে আবার শিববাড়িতে এসে শেষ হয় ‘জুলাই পদযাত্রা’।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশে নতুন স্বাধীনতা এসেছে, কিন্তু একটি দল এটিকে লুটপাট ও চাঁদাবাজির স্বাধীনতা বলে মনে করছে।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পাঁচই আগস্ট থেকে ছাত্রদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমরা জনগণের স্বাধীনতা চেয়েছি কিন্তু একটি দল মনে করছে, তারা লুটপাট, দখলদারিত্ব আর চাঁদাবাজির স্বাধীনতা পেয়েছে। এক সময় ব্যবসায়ীরা রাজনীতির ছত্রছায়ায় মাফিয়ায় পরিণত হয়েছিল। এখন সেই মাফিয়াচক্রকেই আবার সামনে আনা হচ্ছে। আমরা এই দখলদার ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।’
দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমাদের বন্ধু। কিন্তু কিছু গণমাধ্যম মিডিয়ালীগ হয়ে গেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিএনপির অনেক নেতাকে আমরা জেল থেকে এনেছি, ভারত থেকেও এনেছি। আমাদের জন্য কারো দরজা খোলার প্রয়োজন নেই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ যে লগি-বৈঠার রাজনীতি শুরু করেছিল, সেটি এখন বিএনপি লিজ নিয়েছে।
এনসিপি নেত্রী তাবাসসুম বলেন, এখনও প্রকাশ্যে মানুষ খুন হচ্ছে। এই কি সেই জুলাই, যার স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম? খুলনা থেকেই আবারো প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আগে শেখ হাসিনার সিরিয়াল ধরতো, এখন ধরছে লন্ডনের সিরিয়াল। বিএনপি সেই ব্যবসায়ীদের থেতলে দিয়েছে। মানুষ আর এই ধোঁকাবাজি মানবে না।’
এদিকে, খুলনার কর্মসূচির আগে যশোরে হোটেল অরিয়নে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এনসিপি। এ সময় দলটির নেতারা দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে বিচার ও সংস্কার নিশ্চিত করার দাবি জানান।