পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতীকী সড়ক অবরোধ হয়েছে বরিশালে। পৃথকভাবে রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে এবং শহরের নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় ছাত্র জনতার ডাকে বিক্ষোভ হয়।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হল থেকে শুরু হয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রতীকী অবরোধ শেষে গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে শেষ হয়।
রাত পৌনে ১০টায় এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয় এবং ১০ মিনিট বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা 'সাইদ ওয়াসিম মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ, 'যুবদল মানুষ মারে তারেক রহমান কি করে', 'যুবদল মানুষ মারে বিএনপি কি করে', 'তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা' স্লোগান দেয়।
এ সময় রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহম্মেদ বলেন, গত ৯ তারিখ যে ঘটনা ঘটেছে,জুলাই পরবর্তী সময়ে এসে এ ধরনের ঘটনা আমরা বরদাস্ত করবো না।আবার যদি কেউ নতুন ভাবে আওয়ামী স্টাইলে ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালাতে চায় তাহলে আমরা সেটা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদ বলেন, নব্য কোনো ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এ বাংলায় আর হবে না। যারাই ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে তাদেরই শক্ত হাতে প্রতিহত করবে বাংলার মানুষ।
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন, আমরা দেখেছি এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গত দুদিনের আগের। কিন্তু কোনো মিডিয়া এ বিষয়ে কথা বলেনি। আমরা আজকের এই বিক্ষোভ থেকে বলতে চাই, বিএনপি-আপনারা সতর্ক হয়ে যান অন্যথায় আপনাদের অবস্থা আওয়ামী লীগের থেকেও করুণ হবে।
অন্যদিকে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় ছাত্র-জনতার ডাকে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এ সময় প্রতিবাদকারীরা সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশব্যাপী হত্যা, লুটপাট, নৈরাজ্য করছে। অবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে সড়ক অবরোধে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে বিক্ষুব্ধরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিডিয়া সেল প্রধান কাজী জায়েদ বলেন, দেশব্যাপী নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে আমাদের এ বিক্ষোভ মিছিল। সোহাগকে যেভাবে পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা অত্যন্ত নির্মম ও ভয়ংকর। আমরা পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন চাই না।