ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আজ সকাল থেকে দিনভর থেমে থেমে তীব্র এই যানজটের কি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো পরিবহন চালক ও যাত্রীরা।
সরেজমিনে মহাসড়ক ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকা থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এফকস্ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত অন্তত ৫১ কিলোমিটার মহাসড়ক দুই লেন থেকে চারলেনে উন্নিত করনের কাজ করছেন। এর মধ্যে আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের আশুগঞ্জ গোল চত্বর এবং বিশ্ব এলাকার বিশ্বরোড অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। যার কারণে প্রায়শই মহাসড়কটিতে যানবাহন বিকল হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক শামীম আহমেদ জানান, এ মহাসড়কটির খানাখন্দের কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আজ আশুগঞ্জ থেকে শাহবাজপুর চান্দুরা পর্যন্ত এ যানজটের তীব্রতা ছড়িয়েছে। তিনি জানান, একবার যাত্রী নিয়ে চলাচল করার পর দ্বিতীয়বার এ সড়কটি দিয়ে কেউ আসতে চায় না। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই মহাসড়কটি সচল রাখার লক্ষ্যে অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কর্মকর্তাদের বারবার তাগিদ দিয়েছি। তারা মহাসড়কটিতে যানচলা চলের জন্যে উপযোগী করে তুললে মহাসড়কটিতে তেমন সমস্যা হতো না।’
তিনি জানান, তাদেরকে আজকে বলা হয়েছে আগামীকাল যেন বিশ্বরোড অংশের গর্তগুলো ভরাট করে মেরামত করে দেন। দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। আগামীকাল তিনি মহাসড়কের থেকে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান তিনি।
খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, আশুগঞ্জ গোল চত্বর থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের শেষ সীমানা আশুগঞ্জ গোল চত্বর থেকে সাতবর্গ পর্যন্ত মোট ৩৪ কিলোমিটার অংশে প্রায়শই যানজট লেগে থাকে।
তিনি জানান, এ মহাসড়কের যানজট প্রতিদিনকার নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের শত প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও কোনোভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, একদিকে মহাসড়কে খানাখন্দ অপরদিক দিয়ে যানবাহন চালকদের পাল্লা দিয়ে ওভারটেক করা এবং ছোট যানবাহনগুলো এলোপাতাড়ি চলাচলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ঈদের আগে মহাসড়ক মেরামত করা না গেলে তীব্র ভোগান্তির শিকার হবে এ মহাসড়কে চলাচলরত চালক ও যাত্রীরা।