ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে ইসরাইল অক্ষম: জন কেরি

Date: 2025-05-25
news-banner

ইরানে ইসরাইলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তিনি বলেছেন, ইসরাইল একা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে পারবে না।


শনিবার (২৪ মে) ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জন কেরি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক আলোচনার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য ইসরাইলের পক্ষ থেকে দেয়া হুমকির কথা উল্লেখ করেন।

 
সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাম্প সম্ভাব্য সর্বোত্তম চুক্তি করতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটা সমাধান অবশ্যই বের করবেন। আমি খুশি যে প্রেসিডেন্ট এটি অনুসরণ করছেন। আমি মনে করি এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।’
 
কেরি জোর দিয়ে বলেন, ‘একা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার ক্ষমতা ইসরাইলের নেই। যদি অন্যান্য দেশ থেকে ইসরাইলে সমর্থন না পায়, তাহলে তেহরানে হামলা করা ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব নয়।

কেরির দাবি, তারা (ইসরাইল) ইরানের পরমাণু স্থাপনা হয়তো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতি করতে পারবে। কিন্তু ঘটনাটি এই অঞ্চলের সবার জন্য অনেক দিক থেকে অনেক বড় বিপদের প্রক্রিয়া শুরু করবে।’
 
শুক্রবার (২৩ মে) ইতালির রাজধানী রোমে  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম দফার বৈঠক শেষ হয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমান জানায়, এবারের বৈঠকে কিছু নতুন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। যেগুলো নিয়ে এখন দুই দেশের রাজধানীতে মূল্যায়ন হবে। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হবে পরবর্তী বৈঠকের সময়। তবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দুই-তিনটি বৈঠকে এই জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
 
রোমের ওমানি দূতাবাসে পাঁচ দফা আলোচনার শেষ দিনে আরাঘচি বলেন, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে পেশাদার বৈঠকগুলোর একটি। তিনি আরও জানান, ইরান তার নীতিগত অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার বলে মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও নিজ অবস্থানে অটল। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি বলেন, ইরানকে ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও সীমিত রাখতে হবে।
 
ইরান বলছে, তারা পরমাণু চুক্তি মেনে চলতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি পেলে তবেই তারা এ পথে এগোবে। বিশেষ করে, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এমনটাই দাবি তাদের।

Leave Your Comments